শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২

১৪ থেকে ২১ এপ্রিল কঠোর লকডাউন, প্রজ্ঞাপন জারি

প্রকাশিত: সোমবার, এপ্রিল ১২, ২০২১

লকডাউনে ফাঁকা নগরীর সিআরবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে চলাচল ও সার্বিক কাজে যে নিষেধাজ্ঞা চলছে, তাতে মহামারি পরিস্থিতিতে কোনও প্রভাব না পড়ায় এবারে কঠোর এবং সর্বাত্মক বিধিনিষেধ আনলো সরকার। ১৪ এপ্রিলের ভোর ৬টা থেকে থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত যা বলবৎ থাকবে। সোমবার (১২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এতে ১৩ দফা নির্দেশনা এসেছে।

এতে বলা হয়েছ-অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। এ সময় জরুরি সেবা ছাড়া, সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পণ্য ও জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের পরিবহন বন্ধ থাকবে।

এ দফায় বন্ধ থাকছে শপিংমল ও দোকানপাট। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হোটেল রেস্তোঁরাগুলো শুধু খাবার পার্সেল সরবরাহ করতে পারবে। 

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত জায়গায় কাঁচাবাজার বসবে বং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু থাকবে শিল্পকারখানা। রয়েছে অন্যান্য বিধিনিষেধও। 

আরও বলা হয়েছে জুমার ও রোজার মাসে তারাবির নামাজের বিষয়ে নির্দেশনা দেবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞায় এখন দূরপাল্লার গণপরিবহন ছাড়া প্রায় সবকিছুই চলছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন যেমন চলছে, তেমনি দোকানপাট এবং শপিংমলও সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাচ্ছে। শিল্পকলকারখানা এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসও খোলা।

এমন ঢিলেঢালা পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বরং সংক্রমণ ও মৃত্যুর সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত আছে। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শঙ্কা, বর্তমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।  এখনই হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রোগীদের।

এ রকম পরিস্থিতিতে গত ৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। সঙ্গে বাড়ছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা। এ অবস্থায় সরকার জনস্বার্থে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।

সেদিনই জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, সর্বাত্মক লকডাউনে শুধু জরুরি সেবা চালু থাকবে। কোনোভাবেই মানুষ ঘরের বাইরে আসতে পারবে না। রবিবার প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে করোনা বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দুই সপ্তাহের লকডাউনের সুপারিশ করেছিলেন দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত কারিগরি কমিটির বিশেষজ্ঞরা। সিটি করপোরেশন এলাকায় পূর্ণ লকডাউনের সুপারিশও করেন তারা।

আরো পড়ুন