শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২

হেফাজত নেতা নোমানীর বিরুদ্ধে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

প্রকাশিত: শুক্রবার, মে ৭, ২০২১

জাকারিয়া নোমান ফয়জী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জীর একাধিক নারীর সঙ্গে বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক ও প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এরই মধ্যে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষনের অভিযোগে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা জন্ম দিয়েছে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও আলেম সমাজের মধ্যে।

শুক্রবার হাটহাজারী থানায় এই মামলা (নং ৯) দায়ের করেন তিনি।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর পরিচয় ঘটে ওই নারীর। ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত চ্যাটিং হতো তাদের মধ্যে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২০১৯ সালের নভেম্বরে হাটহাজারীর কনক বিল্ডিংয়ের নীচ তলায় বাসা ভাড়া করে দেন ফয়েজী। দীর্ঘ এক বছর ওই ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। গত বছর হাটহাজারী থেকে নগরীর খালার বাসায় চলে আসার পরও বিভিন্ন বাসা ও হোটেলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে মামলাটি তদন্ত করার জন্য হাটহাজারী থানার এসআই মো. মুকিব হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক জানান, জাকারিয়া নোমান ফয়েজীকে গ্রেফতারের পর আমরা তার একটি মোবাইল উদ্ধার করি। সেখানে আমরা তার একাধিক নারীর সঙ্গে বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের প্রমাণ পেয়েছি। বেশ কিছু চ্যাটিং পেয়েছি। যাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। আমাদের হাতে রয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ করব না। তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল, সুস্পষ্ট চ্যাটিং আমাদের রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দুই-তিনজন মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক আছে। প্রতিটি বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জীর হাটহাজারীতে যেসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ, থানা ভাঙচুর, ডাকবাংলো ভাঙচুর, ভূমি অফিসে আগুন দেওয়াসহ প্রতিটিতে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। এসব ঘটনায় যারা মাস্টারমাইন্ড ছিল, তাদের মধ্যে একজন জাকারিয়া নোমান ফয়জী। তাদের ইন্ধনে, তাদের নির্দেশে, তাদের অর্থের জোগানে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জাকারিয়া নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন।

অর্থের জোগানদাতা কারও পরিচয় পাওয়া গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, অর্থের জোগানদাতা কারা সেটা আমরা তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বের করার চেষ্টা করব। জাকারিয়া নোমান ফয়জী হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হেফাজত কর্তৃক যেসব সহিংসতা সম্পৃক্ত হয়েছে, কমবেশি প্রতিটি ঘটনায় কোথাও কোথাও তার সম্পৃক্ততা ছিল। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও বিস্তারিত তথ্য আমরা পাব।

গত ৫ মে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে এসে বৃহস্পতিবার আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

আরো পড়ুন