শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইফতারে অতিথি এলডিপির নেতা, সভাপতি বললেন “সম্মানিত” ব্যক্তি

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মে ১১, ২০২১

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

রাজনীতি শুরু করেন তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে। এরপর করেন বিএনপি। ছিলেন বিএনপির উপজেলা সভাপতি। তারপর ভোল পাল্টে হয়ে যান এলডিপি। এই দলের শীর্ষ নেতার সমর্থন নিয়ে হয়ে যান তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের নেতাদের বদান্যতায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আবারো বাগিয়ে নেন উপজেলা চেয়ারম্যানের মুকুট। তিনি লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল।

করোনা মহামারীর কারণে জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকলেও সরকারি নির্দেশনাকে অমান্য করে ইফতার পার্টি করে লোহাগাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এতে বিব্রত স্থানীয় আওয়ামী লীগও।

গত সোমবার লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি ছিলেন মধ্যমণি। তার এক পাশে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি এম. এ হাশেম চেয়ারম্যান, আরেক পাশে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মেয়র মো. জোবায়ের ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মো. গালিব। আওয়ামী লীগের কোন পদে না থাকলও প্রধান অতিথির জন্য রাখা সংরক্ষিত চেয়ারে বসানো হয়েছে তাকে। আর এ নিয়ে চলছে লোহাগাড়া জুড়ে তোলপাড়।

জানা যায়, গত সোমবার লোহাগাড় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।এ উপলক্ষে করা ব্যানারে দেখা যায়, প্রধান অতিথি হিসেবে আছেন দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মো. জোবায়ের ও প্রধান বক্তা সাধারণ সম্পাদক ও বাঁশখালীর উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী মো. গালিব। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রিদওয়ানুল হক সুজন।

অনুষ্ঠানের দেখা যায়, প্রধান অতিথির জন্য রাখা মাঝখানের চেয়ারে বসে আছেন লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি হয়ে এলডিপিতে যাওয়া জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল। অতিথির আসনে এলডিপরি নেতার জায়গা হলেও বসতে দেখা যায়নি দলের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মো. গালিবকে। তিনি বসেছেন মো. জোবায়েরের পরে।

দলীয়সূত্র জানায়, সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় আওয়ামীলীগ তিনগ্রুপে বিভক্ত। আর বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি, জামাত এলডিপির নেতাদের দলে টানছেন আওয়ামী লীগের একটি অংশ। নিজেদের গ্রুপ ভারি করার জন্য এ কাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

তবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জোবায়ের। তিনি বলেন, বাবুল সাহেব একজন মুরব্বী মানুষ ও জনপ্রতিনিধি। তিনি এলডিপি করলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে এসেছেন। তাই তাকে সম্মান করে মঞ্চে বসানো হয়েছে। কেউ যদি ইফতার মাহফিলে আসে তাকে তো আর বের করে দেওয়া যায় না।

বিএনপি হয়ে এলডিপি যাওয়া নেতা কিভাবে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইফতার সবার জন্য, উনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে গেছে, আর যে কেউ যেতে পারে। আর আওয়ামীলীগের সম্মেলনে তো বিএনপি শুভেচ্ছা জানাতে যায়। ইফতার মাহফিলে যে কেউ যে কোনো দলের মানুষ আসতে পারে। আর তিনি যেহেতু সম্মানিত ব্যক্তি তাই তাকে মঞ্চে বসানো হয়েছে। এলডিপিসহ সকলে এখন আওয়ামী লীগে চলে আসছে দাবি করেছেন তিনি।

দলীয় সাধারণ সম্পাদককে অতিথির আসনে না বসানোটাকে নিয়ে তিনি বলেন, গালিব আমার সাথে কথা বলতে আসছে। আর এখন যে উন্নয়ন করছে তার কারণে অনেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। এসব নিউজ করা কি সাংবাদিকতা কি না সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

আরো পড়ুন