শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলি অব্যাহত

সীমান্ত এলাকার তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২

শহিদুল ইসলাম, সীমান্ত থেকে ফিরে::

উখিয়ার পাশ্ববর্তী ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে। পাশাপাশি মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে সীমান্ত জনপদ। এ জনপদের মানুষের মাঝে নেমে এসেছে অজানা আতংক। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা কোন কিছুকে তোয়াক্কা করছে।

মঙ্গলবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০টির অধিক মর্টার শেলের গোলা বিস্ফোরণের শব্দ শুনা গেছে বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেন।

সন্ধ্যা হলে দোকান পাট বন্ধ করে বাড়ি করে চলে যাচ্ছে। তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, আগের চেয়ে বেচা বিক্রি কমে গেছে। মানুষরা আগের মত তেমন কেনাকাটা করছে না। আগের তুলনায় গাড়ি কমে গেছে।

তুমব্রু গ্রামের বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক মর্টারশেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি।সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হয় না।

রেজু গর্জন বুনিয়া গ্রামের চায়ের দোকান আবু শমা বলেন, প্রতিদিন শুনছি গুলির শব্দ। বাড়ির ছোট ছেলেরা ভয়ে স্কুলে যায় না। কবে এ গুলো শেষ হবে।

টমটম চালক আবু তাহের বলেন, ৫টির মত মর্টার শেলের শব্দ শুনেছি। গাড়ী থেকে নেমে দুইযাত্রী দৌড় শুরু করেন। চলমান পরিস্থিতির কারনে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন করেন।

এ ব্যাপারে ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, প্রতিদিনের মতো মিয়ানমারের গোলাগুলি চলছে।সীমান্তের জিরো পয়েন্টে থাকা লোকজন ঘর -বাড়ি ছেড়ে সহজে যেতে যায় না।

এছাড়া তুমব্রু জিরো পয়েন্টে থাকা রোহিঙ্গারা সবচেয়ে বেশি আতংকে আছে বলে রোহিঙ্গা ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন।ইতিমধ্যে তাদের নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন বলে রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানিয়েছেন।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকায় এবার নতুন করে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে দুপুর পর্যন্ত আঞ্জুমান পাড়ার সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা গোলাগুলির শব্দ পান বলে ওই এলাকার বাসিন্দা ইউনুস বাপ্পি জানিয়েছেন।

তবে সন্ধ্যার দিকে গোলা গুলির শব্দ শুনা যায়নি।জানা যায়, উখিয়া সীমান্ত ঘেষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওয়ানচিপ্রং সে দেশের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ‍্যে গোলাগুলি চলছে।

এ ব্যাপারে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী বলেন, বান্দরবানের তুমব্রুর পর এবার আঞ্জুমান পাড়ার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পালংখালী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পূর্ব বালুখালু, জমিদার পাড়া ও ধামনখালী পাড়ার প্রায়ই ১০০ পরিবারকে সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।

নাফ নদী ঘেষা সীমান্তের এই অংশে ওপার থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রথম গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে কিছু টা স্বাভাবিক থাকলেও গতকাল (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিকট বিস্ফোরণ এর শব্দ শুনতে পান এখানকার বাসিন্দারা, এরপর আজ সকালের শুরু থেকেই সেখানে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

পালংখালী আঞ্জুমান পাড়া সীমান্তের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য সোলতান আহমদ বলেন কয়দিন ধরে খবর পাচ্ছি সীমান্তে গোলাগুলি চলছে। আজ সকালে আমাদের আঞ্জুমান সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।”তবে এ বিষয়ে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতিতে আমরা সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত জুলাই থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সেদেশের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে চলা সংঘাতে অস্থির হয়ে উঠেছে রাখাইন রাজ্য।

সংঘাতের প্রভাবে আতংক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে, তিন দফায় মায়ানমার থেকে নিক্ষেপিত মর্টার শেল পতিত হয়েছে উখিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের ঘুমধুমে।

আরো পড়ুন