রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

সাংবাদিক রোজিনাকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসার নির্দেশ

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মে ১৮, ২০২১

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা:

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৮ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত এ আদেশ দেন। সেই সাথে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসারও আদেশ দেন। একই আদালত আগামী ২০ মে বৃহস্পতিবার তার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবুসহ প্রমুখ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। রোজিনা ইসলামের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এহেসানুল হক সমাজী, প্রশান্ত কুমার কর্মকর রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন।

এহেসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের জানান, মামলাটি আইনত ত্রুটিপূর্ণ মামলা। আসামিকে যে অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে সেটি সম্পূন্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। কেননা মামলার এজাহারের মধ্যে যে ডকুমেন্টস এর কথা বলা হচ্ছে, সেই ডকুমেন্টস এর কোনো বর্ণণা এজাহারের মধ্যে নেই। যে জব্দ তালিকা আদালতে হাজির করা হয়েছে, সেই জব্দ তালিকা থেকে দেখা যায়, সেই ডকুমেন্টসগুলো কথিত মতে আসামির কাছ থেকে নয় বরং একজন সরকারি কর্মকর্তার নিজেই উপস্থাপন করেছেন। কাজেই আসামির কাছে থাকার বিষয়ে কথিত আসামি চুরি করেছে, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে সেগুলো মানহানিকর এবং আপত্তিকর।

তিনি বলেন, আদালতকে বলেছি, ৩৭৯ ধারাকে যদি বিশ্বাস করতে হয় তাহলে এর উপাদান হচ্ছে যেকোনো বিষয়বস্তু চুরি করার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত স্থানে হতে হবে। আর প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী অফিশিয়াল সিক্রেস অ্যাক্ট অনুযায়ী যদি বিশ্বাস করেন তাহলে কথিত মতে ঘটনাস্থল হচ্ছে সচিবালয়। সুতরাং পরস্পর বিরোধপূর্ণ দুই ধারা আদালতের কাছে সন্দেহ সৃষ্টি করে। প্রকৃত ঘটনাস্থল কোথায় এবং আদৌ ঘটনা ঘটেছিল কি না। আসামি তার মহান পেশার দায়িত্ব পালন করতে সচিবায়লয়ে গিয়েছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় নিয়ে দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করেছেন। মহান পেশার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘটনার পরিস্থিতির শিকার। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। আদালতকে বলেছি, তিনি একজন নারী। আর আনা প্রতিবেদনের ভিত্তিকে আসামির রিমান্ড মঞ্জুরের যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। আদালত সেটি বিবেচনায় নিয়ে রিমান্ড নামঞ্জুর করেছেন। জামিনের বিষয়ে বলেছি, ধারাগুলো জামিনযোগ্য। সুতরাং আসামির জামিন পাওয়া অধিকার। আদালত যথেষ্ট সময় নিয়ে শুনে জামিনের বিষয়টি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মে) ধার্য করেছেন।

এসময় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিক সমাজকে এক হওয়ার অনুরোধ জানান। সবাইকে আওয়াজ তুলতে বলেন এবং আজকের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের সহযোগী। আমরা যদি দুর্নীতির খবর না তুলে ধরি তাহলে সরকার কীভাবে বুঝবে দেশে দুর্নীতি হচ্ছে। কাজেই আমরা সরকারের উপকার করার চেষ্টা করছি। রোজিনা ইসলাম তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এজাহারে শুনেছি তিনি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে পারেন। আমি বলি, একজন সাংবাদিক নারী, মা, অসুস্থ নারী সচিবালয়ে গিয়ে যে পরিস্থিতি মোকাবেলা করলেন। আজকে সারা পৃথিবীতে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জল হলো না ক্ষুন্ন হলো। কাজেই ভাবমূর্তি কারা ক্ষুন্ন করছে। আমি মাননীয় সরকার, সরকারের উচ্চ মহল এবং নীতিনির্ধারকদের বলবো, সরকারের বা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে চাই তাহলে এই মামলা নিশর্তভাবে প্রত্যাহার করা হোক। আর আইনের যে লড়াই এটা আমরা একটার পর একটা করবো। দেশের একজন লেখক, ভোটার, মুক্তিযেুাদ্ধর সন্তান হিসেবে বলছি, সাংবাদিকতাকে একটা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ প্রতিটি নাগরিকের অধিকার আছে তথ্য জানার। সেই অধিকার কায়েম করার জন্য যদি সাংবাদিকদের ওপর জুলুম করা হয় তাহলে সেটা সাংবাদিকতা, দেশ, প্রশাসন, সুশাসনের জন্য ভালো না। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের কথা না। মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বারবার সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলে গেছেন। সেদিন চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিব নিজেও যে একজন সাংবাদিক ছিলেন এ নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। এটা পড়ে আমাদের মুখ উজ্জল হয়েছে। মাথা উঁচু হয়েছে। সেই সাংবাদিকের ওপর যদি নির্যাতন চলে, ৬/৭ ঘন্টা আটকে রাখা হয়। সেগুলো হেনস্থা ছাড়া আর কিছু না। আইনের বাইরে নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে।

আরো পড়ুন