শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২

‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যায়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের কোনো সমন্বয় নেই, কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো রোডম্যাপ নেই। এই যে সাত দিন দিয়েছে, তার পরে কী হবে? হাউ ডু দে প্ল্যান টু ফিট দ্যাট কমন পিপলস। যারা দিন আনে দিন খায়, তাদেরকে খাওয়ার তারা কি ব্যবস্থা করছেন? এই লোকগুলোকে তো ঘরে রাখতে পারবেন না। যার পেটে ভাত নেই তাকে লকডাউন দিয়ে কী করবে, করোনা দিয়ে কী করবে- সে তো চিন্তা করতে পারবে না। এই সংখ্যা কিন্তু অনেক।’

লকডাউন কিভাবে সফল করা যাবে?— প্রশ্ন করা হলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ব্যাপারটা তো সহজ নয়, অত্যন্ত কঠিন নিঃসন্দেহে- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ ডেন্সলি পপুলেটেড এরিয়া, ১৮ কোটি মানুষ এখানে। এখনো তো আলাউদ্দিনের চেরাগ কারও হাতে নেই যে, মুহূর্তে ঠিক করে ফেলবেন।’

‘একটা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং অতীতে আমরা সরকারে ছিলাম সেই হিসেবে বলতে চাই যে, এখানে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রত্যেকটা এলাকায় জাতীয় কমিটি তৈরি করেন—সমস্ত রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক সংগঠন, এনজিও, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি তৈরি করেন। বাংলাদেশে তো ইতিহাস আছে। আমরা বন্যার সময় কিভাবে দুযোর্গ মোকাবিলা করেছি, কিভাবে সাইক্লোন, প্রাকৃতিক দুযোর্গ মোকাবিলা করেছি। সেভাবে যদি জনগণকে সম্পৃক্ত না করেন তাহলে তো সুফল পাবেন না’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এখানে কী হচ্ছে? জনগণকে সরকার সম্পৃক্ত করতে চায় না একটা মাত্র কারণে যে, তারা লুটপাট করবে, টাকা চুরি করবে।’

লকডাউনের বিরোধিতা করছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘না আমরা লকডাউনের বিরোধিতা করছি না। তারা লকডাউন নাম হিসেবে ব্যবহার করছে। এখন পর্যন্ত আমরা দেখছি যে, অকার্যকর একটা শাটডাউন করছে। হাজার হাজার লোকজন বেরুচ্ছে, হাজার হাজার লোক বাজারে যাচ্ছে। দেখুন কতটা স্ববিরোধিতা। আবার শিল্পকলকারখানা খোলা রাখছে। কোনো পরিকল্পনাই নাই।’

তিনি বলেন, ‘সবাই সম্পৃক্ত করেন। লেট ইট বি পিপলস প্রোবলেম। কমিশনারদের দায়িত্ব দেন, কথার কথা বলছি এরা তো সেভাবে নির্বাচিত নয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করেন, তাদেরকে বলেন যে, এটা সুপারভাইজ করতে। পরীক্ষার জন্য যেসব ইউনিট বা সেন্টার করেছে যেটা যেন তারা দেখেন-প্রোপার টেস্ট কিটস আছে কি না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘গণস্বাস্থ্যকে টেস্ট কিট তৈরি করতে দিলেন না। আপনি পুরোপুরিভাবে যেটা করেছেন সেটা হলো ব্যবসা করার জন্য, দুর্নীতি করার জন্য। দেশীয় ভাষায় একটা কথা আছে ‘নিয়ত’। নিয়ত যদি ঠিক থাকে সব ঠিক থাকবে। তাদের নিয়তই খারাপ। তাদের নিয়ত হচ্ছে কানাডাতে বাড়ি বানাবে, বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি বানাবে এখান থেকে দুর্নীতি করে।’’

আরো পড়ুন