বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

“সত্যের জয় হবেই ইনশাআল্লাহ” বললেন শারুন চৌধুরী

প্রকাশিত: শনিবার, এপ্রিল ২৪, ২০২১

চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যাংকার আবদুল মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যার ঘটনা যেনো দিন দিন আলোচনার প্রাণপ্রদীপে চলে আসছে। তবে মামলায় যাদের নাম উল্লেখ আছে তাদের বাদ দিয়ে সবকিছুতে এখন খোঁজা হচ্ছে তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে।

শনিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইসরাত জাহান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ৭ এপ্রিল ব্যাংকার আবুল মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি চার পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট রেখে যান। এর একটি অংশে লেখা ছিল, ‘আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবে, আরেকটু দেখি, আরেকটু দেখি করতে করতে দেনার গর্তটা অনেক বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে। যারা কোনো টাকাই পেত না, তাদের দিতে গিয়ে এখন সত্যিকারের দেনায় জর্জরিত। বেঁচে থাকলে এই দেনা আরও বাড়বে। তা ছাড়া পরিচিতগুলোই এখন চেপে ধরেছে বেশি। এই লোড আমি আর নিতে পারছি না, সত্যি পারছি না।’

তিনি স্বীকার করেন তাঁর স্বামী মোরশেদ চৌধুরীর সাথে শারুন চৌধুরীর কোন লেনদেন ছিলো না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ২০১৯ সালের মে মাসের একদিন শারুন তাঁর স্বামীকে ফোন করে রেডিসন হোটেলে দেখা করতে বলেন। মোরশেদ এতে আপত্তি করে বলেন তাঁর (শারুন চৌধুরীর) সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন নেই।

তারপরও একটি পক্ষের হয়ে বার বার কেন শারুন চৌধুরীর নাম আলোচনায় আসছে সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে মোরশেদ চৌধুরীর সাথে শারুন চৌধুরীর ব্যবসায়িক কোন লেনদেন না থাকলেও উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বার বার অন্য আসামীদের আড়াল করে শারুন চৌধুরীর নাম সামনে আনছে মোরশেদ চৌধুরীর পরিবার।

ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের পর নিজের ভেরিফাই ফেইসবুক আইডি একটি স্টাটাস দিয়েছেন শারুন চৌধুরী।

তাতে তিনি লিখেছেন “ব্যাংকার মোরশেদের আত্মহত্যার ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মুখরোচক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমি এই ঘটনার সাথে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নই। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও “ব” আদ্যক্ষরের একটি শিল্পগ্রুপ আমাকে এই ঘটনায় জড়িয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের চেস্টা করছে। আমার সাথে জনাব মোরশেদের কোন ব্যবসায়িক লেনদেন বা সামাজিক সম্পর্ক নেই।

গত দুই বছরে তার সাথে আমার কোন কথা বা দেখা হয়নি। ২০১৯ সালের একটি সামাজিক সালিশে অনেকের মতো আমি উপস্থিত ছিলাম মাত্র । আমি একদিনই জীবনে জনাব মোরশেদকে দেখেছি। আমি বুঝতে পারছিনা, জনাব মোরশেদের স্ত্রী এতদিন পরে বিশেষ মহলের প্ররোচনায় আমাকে এখানে কেন জড়ানোর চেস্টা করছেন???

জনাব মোরশেদের আত্মহত্যার পরে সিপ্লাস টিভিতে দেওয়া সাক্ষাতকার ও প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে, জিডিতে, মামলায় কোথাও আমার কোন নামগন্ধ পর্যন্ত নেই।

মোরশেদের আপন ফুপাতো ভাই ও মামলার আসামী পারভেজ ইকবালের টিভি ইন্টারভিউতে দেখলাম, তিনি ব্যাংক ঋন নিয়ে ইনভেস্ট করেছেন এবং কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋন নিয়েছেন তা স্পস্ট করেছেন, কত টাকা ব্যাংকের ইন্টারেস্ট দিয়েছেন তাও বলেছেন, তাহলে এখানে আমি কিভাবে বিনিয়োগ করলাম তা বুঝতে পারছিনা !!!

আমার বিরু্দ্ধে এমন মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানাই। আমি চাই এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হউক, কিছু মিডিয়া ট্রায়াল করে হয়রানীমুলক সংবাদ কাম্য নয়। সত্যের জয় হবেই ইনশাল্লাহ্ !!”

আরো পড়ুন