রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

শেখ হাসিনা: এক অকুতোভয় সংগ্রামের প্রতীক

প্রকাশিত: সোমবার, মে ১৭, ২০২১

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :

আজ ১৭ মে। ১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। ওই দিন সারা দেশ থেকে আসা লাখো মানুষ তাকে স্বাগত জানান, ভালোবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা। সেই থেকে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে চার দশক ধরে শেখ হাসিনা দলের পাশাপাশি দেশ পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন। 

যুদ্ধোত্তর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল সংবিধানের চার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে। ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড আর ৩ নভেম্বর জেলখানায় ৪ জাতীয় নেতা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেই সংবিধান রুদ্ধ হয়,  চেপে বসে সামরিক শাসন। দেশের বাইরে থাকায় ভয়াল সেই রাতে বেঁচে যান তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। 

৭৫ এর পর একসময় রাজনীতি উন্মুক্ত হলেও, যারা রাজনীতি করতেন তাদের কাছে সময়টা ছিল সংকটের। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগেও তখন নানা মত ও নেতৃত্বের মেরুকরণ। পাল্টাপাল্টিতে কাউন্সিল ভেঙে পড়ার উপক্রম। সেসময়ই ঐকমত্যের প্রতিফলন,  শেখ হাসিনার নাম প্রথম উচ্চারিত হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে। বিদেশে থাকা অবস্থাতেই ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। 

এরপর ১৭ মে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ভারত থেকে  ফিরে এলেন তিনি।বিমানবন্দর থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত  ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে শেখ হাসিনা যখন লাখো মানুষের সামনে দাঁড়ান,  তখন তিনি জননেত্রী হিসেবেই পাকাপোক্ত স্থান করে নেন। 

রাজনীতিতে শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন, তার প্রাণ সংশয় হয়েছে। জেল খেটেছেন। 

শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের ফলেই আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ রেখে চার বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে এবং বর্তমানে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতাসীন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের এই সময়ের শাসন আমলেই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন মাত্রা সূচিত হয়েছে। শেখ হাসিনার শাসনামলেই চলতি বছর বাংলাদেশ স্বল্পন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশে পরিণত হয়েছে।

১৯৮১-তে  জনতার সামনে যে মূল্যবোধ রক্ষার প্রতিশ্রুতি তিনি দেন, সেই সংগ্রামে তিনি এখনো আছেন। 


বাণী-
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণী দিয়েছেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক বলে বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

স্বদেশ প্রবর্তন দিবসের কর্মসূচি
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী প্রতিবছর বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করলেও এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দিবস পালন করছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি। দুইদিনব্যাপী এই প্রদর্শনী ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বত্রিশ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে। সহযোগী সংগঠনও নানা কর্মসূচি পালন করবে।

আরো পড়ুন