বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনার ভয়াবহ থাবা: ঝুঁকিতে স্থানীয়রা

প্রকাশিত: শনিবার, মে ২২, ২০২১

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাঝেও মহামারী করোনার সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাবে তাদের কারণে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয়রা। জেলার প্রতিটি উপজেলার মতো প্রতিদিন সমান তালে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও। সেখান থেকে বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে মরণঘাতী করোনা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ মে) কক্সবাজার ল্যাবে ৪৫ রোহিঙ্গার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ঈদের পর থেকে রোহিঙ্গা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ঈদের পরে রোহিঙ্গা আক্রান্তের সংখ্যা- ১৭ মে ৪ জন, ১৮ মে ১৪ জন, ১৯ মে ৪৫ জন এবং সর্বশেষ গতকাল ২০ মে ৪৫ জন।

কক্সবাজার মেডিকেলে কলেজের ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও সংক্রমক ব্যাধী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির জানান, রোহিঙ্গারা স্বাস্থ্যবিধি মোটেও মানে না বললে চলে। কোভিড-১৯ এর ব্যাপারে তারা এখনো সচেতন নয়। করোনার লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তারা পরীক্ষা করতে আসে না। প্রতি ১০০ জনে ৪৫ বা তারও কম লোকজন করোনা পরীক্ষা করে। পরীক্ষা করোনার ব্যাপারে তাদের মোটেও আগ্রহ নেই। তাদের হোম আইসোলেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসায় যথেষ্ট কক্ষ না থাকায় হোম আইসোলেশনেও তাদের রাখা যায় না।

ক্যাম্পের আনাচে-কানাচে অনেক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ঘুরাফেরা করে যার দরুন বিভিন্ন মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ স্থানীয়দের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এদিকে লকডাউনে ক্যাম্পে কিছু কিছু এনজিওদের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জরুরী খাদ্য, গ্যাস, স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এনজিওদের কার্যক্রম ঠিকই প্রতিনিয়ত চলমান রয়েছে। এসব এনজিওতে কর্মরত কর্মীদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের করোনা স্থানীয়দের মাঝে সংক্রমিত হচ্ছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক উপস্থিতিও করোনা সংক্রমণের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। করোনার এই সময়ে তাদের কারণে স্থানীয়রা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করেন তারা। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা আক্রান্ত ৮৬৮ জন। এর মধ্যে গত ১৫ দিনে আক্রান্ত ৫৭৯ জন।

আরো পড়ুন