বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

রহস্য ঘেরা মোরশেদ আত্মহত্যা, শারুন চৌধুরী কেন আলোচনায়

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০, ২০২১

চট্টগ্রামের ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে যতই দিন যাচ্ছে ততই রহস্য তৈরি হচ্ছে। মামলায় যার নাম নেই সেই নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে নিয়েই চলছে এখন আলোচনা। এর পিছনে কে? কেন বা শারুনকে নিয়ে আলোচনা। তাহলে কি মোরশেদ আত্মহত্যার ঘটনাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত শত্রুকে মোকাবেলা করছে কোন পক্ষ। মোরশেদের লাশ নিয়ে কি তাহলে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে তার পরিবার এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মানুষের মাঝে।

নগরীর আগ্রাবাদ শাখার বেসরকারী একটি ব্যাংকার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আবদুল মোরশেদ চৌধুরী পাওনা থেকে পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার পর এটিকে প্ররোচনায় হত্যার অভিযোগ করে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী। মামলায় জাবেদ ইকবাল, পারভেজ ইকবাল আসামী করা হয়। এছাড়া হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল হক চৌধুরী রাসেলের বিরুদ্ধে।

এরপর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের কাছেও মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী তার স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনায় এসব ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন। মামলায় বা সংবাদ সম্মেলনে একবারের জন্যও চট্টগ্রাম পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর পুত্র তরুণ ব্যবসায়ী নেতা নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের নাম মুখে না নিলেও এর কয়েকদিন পরে গণমাধ্যমে শারুন চৌধুরীসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ বক্তব্য দেন।

মামলায় বা সংবাদ সম্মেলনে শারুন চৌধুরীর নাম না নিলেও ঘটনার কয়েকদিন পর কাদের ইন্ধনে, কোন পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নে শারুন চৌধুরীর নাম সামনে আনছে? এর রহস্য কি।

জানা যায়, দেশের বৃহত্তর শিল্প গ্রুপের সাথে হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের ব্যক্তিগত বিরোধ চলে আসছে কয়েক বছর ধরে। এ নিয়ে নানা সময়ে ঐ শিল্প গ্রুপের মালিকানাধীন গণমাধ্যমসহ শারুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একচেটিয়া সংবাদ পরিবেশন করে আসছে৷

এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রিজের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন বলেন, গত দুই বছর ধরে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীর সোবহানের সাথে আমার ব্যক্তিগত ঝামেলার জের ধরে তাদের মালিকানাধীন সকল মিডিয়াতে আমার ও আমার পরিবারের নামে জঘন্য মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। তাদের মালিকানাধীন পত্রিকা, অনলাইন ও টিভির গত ৬ দিন যাবৎ হেডলাইন আমি ও আমার পরিবার। সম্পুর্ন উদ্দেশ্যপ্রনোদিত, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট, সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে তা সংবাদপত্র নীতিমালার পরিপন্থী। বিভিন্ন মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জন্য অনুরোধ করছে। তাদের নিউজ যে সাধারণ মানুষ গ্রহন করছে না, সেটার প্রমাণ হচ্ছে, আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে যে সব নিউজ করা হচ্ছে সেগুলো বোস্টিং করা হচ্ছে।

তাদের এ হলুদ সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি। এসবের বিরুদ্ধে আমটা আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করার প্রক্রিয়া চলছে। করছি। এদের হলুদ মিডিয়ার বিরুদ্ধে সকল সম্মানিত বিবেকবান সাংবাদিক, সম্মানিত মিডিয়া মালিকগন , সম্মানিত রাজনীতিবীদ, ব্যবসায়ী ও দেশপ্রেমিক জনগন রুখে দাড়ানোর আহবান জানান শারুন চৌধুরী।

গত ৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ থানার মিমি সুপার মার্কেট সংলগ্ন হিলভিউ আবাসিকের নাহার ভবনের ছয়তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল মোরশেদ চৌধুরীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মোরশেদ চৌধুরী পূর্ব মাদারবাড়ীর আব্দুল মৌমিন চৌধুরীর ছেলে।

গত ৮ এপ্রিল ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে তর স্ত্রী বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মধ্যম হালিশর মাইজপাড়ার আলী সওদারগরের বাড়ির ইসহাক মিয়ার ছেলে জাবেদ ইকবাল ও পারভেজ ইকবাল, পাঁচলাইশ এমএম প্যালেসের সৈয়দ মো. আবু মহসিনের ছেলে নাইম উদ্দিন সাকিব ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক চৌধুরী রাসেলকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী জাবেদ ইকবাল ও পারভেজ ইকবালকে জড়িয়ে গণমাধমে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ করে তাদের পক্ষের আইনজীবীরা গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী অ্যাডভোকেট তপন কুমার দাশ, অ্যাডভোকেট আজহারুল হক এবং অ্যাডভোকেট রুপেন আচার্য্য সংবাদ সম্মেলন করেন।

ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রীর দাবি, লাভসহ সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার পরও তারা বিভিন্ন সময় টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ ও হুমকির দিয়ে আসছিল। এ কারণে তার স্বামী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন। পাঁচলাইশ থানায় গত ৮ এপ্রিল দায়েরকৃত মামলায় হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরীকে আসামি করা হয়নি।

আরো পড়ুন