শনিবার, ২৮ মে ২০২২

যুবলীগের শীর্ষ পদে প্রার্থী অনেক, বিতর্ক মুক্ত নেতৃত্ব চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, মে ১২, ২০২২

যুবলীগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট::

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদে ৩৫ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৭৩ জন মোট ১০৫ জন শীর্ষ দুই পদে আসার জন্য ফরম জমা দিয়েছেন

তবে নেতাকর্মীদের দাবি, আগের যুবলীগ আর এখনকার যুবলীগে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবলীগের শীর্ষ পদে যারা আছেন তাদের রয়েছে ক্লিন ইমেজ ও বিতর্ক মুক্ত।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির পুত্র শিক্ষাবিদ শেখ ফজলে শামস পরশ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এছাড়াও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতারা বিতর্ক মুক্ত।

তাই এবার ইউনিট যুবলীগে প্রাধান্য পাবে মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়, বিতর্কহীন ও ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্রনেতা ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় নেতারা।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগে পদপ্রত্যশীদের মধ্যে যেমন রয়েছে বিতর্ক মুক্ত, মানবিক ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় নেতা, তেমনি রয়েছে টেন্ডারবাজ, বিতর্কিত নেতারা।

এছাড়াও যাদের সাথে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ও বা অঙ্গ সংগঠনের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না কোন সময়ে তারাও চান যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে।

শীর্ষ পদে আসতে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলম দিদার ও মাহবুবুল হক সুমন, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু, নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য দিদারুল আলম দিদার, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিডিএর বাের্ড মেম্বার এম আর আজিম, ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য সুরজিৎ বড়ুয়া লাবু, নগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য ও ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, নগর যুবলীগের বর্তমান কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল আনােয়ার, ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মােহাম্মদ সালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন, নগর‌ যুবলীগের সদস্য সনৎ বড়ুয়া, সাবেক ছাত্রনেতা সাজ্জাত হোসেন, যুবলীগ নেতা জাবেদুল আলম সুমন, নগর যুবলীগের সদস্য আসহাব রসুল জাহেদ, ইঞ্জিনিয়ার মােহাম্মদ মহিউদ্দিন, সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক‌ ভিপি রাজীব হাসান রাজন, ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান তারেক, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ উদ্দিন, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি, আবু সাদাত সুমন, কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী প্রমুখ।

শতাধিক প্রার্থী থাকলেও মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার পরও কোন প্রার্থীকে দলীয় কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা যায়নি। বিগত কয়েক বছর ধরে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির বাইরে যুবলীগের ব্যানারে কর্মসূচি করতে দেখা গেছে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য দেবাশীষ পাল দেবুকে। শুধু তাই নয়, করোনা মহামারীর শুরু থেকে চট্টগ্রামে মানবিক যুবলীগের দ্যুতি ছড়িয়েছেন একমাত্র তিনিই। আর কোন নেতাকে কি রাজপথ কি সামাজিক কর্মকাণ্ড কোথাও দেখা মিলেনি।

পাশাপাশি শীর্ষ পদে আসতে ফরম জমা দিয়েছেন করোনা মহামারীর সময়ে করোনা আইসোলেশন করে সারাদেশে আলোচনায় আসা সাজ্জাত হোসেনও।

তবে স্বেচ্ছাসেবক লীগে যেভাবে ভাগাভাগির কমিটি হয়েছে সে রকম যদি না হয় তাহলে উঠে আসবে যোগ্য নেতারা। না হলে গ্রুপিংয়ের বলী হয়ে ঝরে পড়তে পারেন যোগ্য ও ত্যাগীরা।

অপরদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের দুই শীর্ষ পদে সভাপতি পদে ১৩ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৯ জন রয়েছেন। তার মধ্যে হত্যা মামলার আসামি, বিতর্কিত নেতারাও রয়েছেন।

সভাপতি পদ প্রত্যাশীরা হলেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য মাে. ফারুক, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ- সম্পাদক নাসির উদ্দিন মিন্টু, কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি দিদারুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী, পটিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক মেম্বার এম এ রহীম, এম এ রহিম, সাইফুল ইসলাম, শফিউল আজম শেফু, আক্তার হােসেন।

সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীরা হলেন, কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সােলায়মান তালুকদার, বেসরকারি কারা পরিদর্শক আবদুল হান্নান লিটন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাে. মাঈনুদ্দিন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আ.ন.ম. ফরহাদুল আলম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, মহিউদ্দিন মহি, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মাে. জাহেদ, মাে. আজিজ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক রাজু দাশ হিরাে প্রমুখ।

এদিকে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের দুই শীর্ষ পদে অর্ধ শতাধিক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিলেও সেভাবে কাউকে সক্রিয় দেখা যায়নি। শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ নাঈমের পক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে ‌।

ধারণা করা হচ্ছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটিতে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার মতামত যাদের দিকে থাকবে তারাই আসবে নতুন নেতৃত্বে।

তবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা চান, কোন নেতার সুপারিশ বা তদবিরে নয় সাবেক ছাত্রনেতা ও যোগ্য নেতারা আসুক যুবলীগের নেতৃত্বে। যাদের অবস্থান রয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায়।

আবার অনেকে যুবলীগের কমিটি ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরোধ প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা দেখছেন।

এদিকে উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে ৯ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১২ জন ।

সভাপতি প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শােনা যাচ্ছে তারা হলেন, উত্তর জেলা যুবলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুল আলম, চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাছির হায়দার বাবুল, মুজিবুর রহমান স্বপন, চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল হায়দার বাবু, রাজিবুল আহসান সুমন, নুরুল মােস্তফা মানিক, এড. দীপক দত্ত, ইঞ্জিনিয়ার হাসান মুরাদ, আবুল বাশার, গােলাম কিবরিয়া।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে আছেন উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাইটভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন মাে. মিজানুর রহমান মিজান বিএ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য রাশেদ খান মেনন, উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুর আলম, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আরজু সিকদার, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাে. আবু তৈয়ব, শেখ ফরিদ, এস এম আল নােমান, এরশাদ খালেদ, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

আরো পড়ুন