বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২

যুবলীগকে স্বনির্ভর সংগঠন হিসেবে গড়তে চাই : দিদারুল আলম দিদার

প্রকাশিত: রবিবার, মে ২৯, ২০২২

দিদারুল আলম দিদার। ১৯৮৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর পিতা এম এ খালেক (চাচা খালেক) ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ট সহচর ও অবিভক্ত বৃহত্তর চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। ফলে পরিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতিতে পথচলা শুরু।

১৯৮৮ সালে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৯০ সালে সরকারী হাজী মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৯৩ সালে সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, এরপর সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হলে সে কমিটির সদস্য ও সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের লিয়াকত সিকদার ও নজরুল ইসলাম বাবু’র কমিটির সদস্য ছিলেন।

আসন্ন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে সিভি জমা দিয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে সাক্ষাতকালে কথা বলেছেন নগর নিউজের প্রতিবেদক ইমরান এমি’র সাথে।

দিদারুল আলম দিদার বলেন, আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন করে ঢেলে সাঁজানোর পরে যুবলীগে এখন মেধাবীদের পথচারনায় মুখর। ছাত্র রাজনীতি শেষ করে যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম অনেক আগেই, কিন্তু যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির সন্তান মেধাবী ও শিক্ষাবিদ শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের নেতৃত্বে আসার পর যুবলীগ করার আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে। করোনাকালীন সময়ে যেভাবে সারাদেশে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশনায় যুবলীগ মানুষের কল্যানে কাজ করেছে তাতে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে দেশের মানুষকে। ফলে নেতৃত্বে যে পরিবর্তন ও গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে তা দেখে অনেক সাবেক ছাত্রনেতা যুবলীগ করার ইচ্ছে পোষণ করছে। ফলে এখন খারাপ লোকেরা পালিয়ে যাচ্ছে, যুবলীগে ক্লিন পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব আসছে। আমি আশাবাদী সামনেও নগর যুবলীগে পরিচ্ছন্ন ক্লিন নেতাদের হাতে যুবলীগের নেতৃত্ব যাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্বে আসার আগে ডোপ টেস্ট করার বিষয়টি অনেকে সামনে আনছেন, আপনার অভিমত কি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যুবলীগের নেতৃত্বে আসার জন্য শুধু ডোপ টেস্ট নয়, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড কি, ব্যবসা বাণিজ্য কি, কিভাবে জীবন যাপন করে, নাকি দূর্নীতির টাকায় সংগঠন চালাবে সব খোঁজ নেওয়া দরকার। পাশাপাশি কোনো কালো টাকা অঅছে কি না নেটাও খবর নেওয়া দরকার। তাতে করে সংগঠন আরো বেশি শক্তিশালী ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব পাবে।

নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সাবেক ছাত্রনেতা দিদারুল আলম বলেন, যুবলীগকে একটি আত্মকর্মসংস্থানমুখি সংগঠন হিসেবে দাড় করাতে চাই। টাকা কামানোর জন্য যেন কেউ যুবলীগে না আসে, রাজনীতি করতে গেলে টাকা লাগবে, তবে সেটা হতে হবে সৎ পথে উপার্জন। তাই আমার টার্গেট থাকবে যুবলীগকে স্বনির্ভর করা। পাশাপাশি যুবলীগের নেতৃত্বে মাদকমুক্ত শহর গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্ঠা থাকবে। ইউনিট কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো টেন্ডারবাজ, বিতর্কিত থাকতে পারবে না। তার জন্য যদি জীবনের ঝ’কি থাকে তারপরও সেটা অব্যাহত থাকবে। যুবলীগ হবে গ্রুপিং মুক্ত, কোনো গ্রুপিং যুবলীগের রাজনীতিতে থাকবে না।

ছাত্ররাজনীতির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘৯১ সালে মহসিন কলেজে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে গিয়ে জামাত-শিবিরের হাতে শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি। ‘৯৬ এ খালেদা বিরোধী আন্দোলনে কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়ে ভূমিকা রেখেছি।

নিজের বাবার রাজনৈতিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে দিদারুল আলম বলেন, আমার বাবাকে সবাই চাচা খালেক নামেই চিনতেন। বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের একজন নেতা ছিলেন তিনি এবং বঙ্গবন্ধু নিজেই চাচা নামে আমার বাবাকে সম্বোধন করতেন। আমরা সে সময়ে পাথরঘাটায় ছিলাম। কিন্তু আমার বয়স যখন ৬-৭ বছর তখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আমরা আমাদের পটিয়া গ্রামের বাড়িতে চলে যায়।

আরো পড়ুন