শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

ভেজাল ঘিয়ে সয়লাব আনোয়ারার হাটবাজার

প্রকাশিত: শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১

জাহেদুল হক, আনোয়ারা:

ডালডা আর পাম ওয়েলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে ঘি, ফ্লেভার আর রঙ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে গাওয়া ঘি। আর এসব ঘি বাহারি নাম দিয়ে কৌটাজাত করা হচ্ছে। এরপর বিএসটিআই‘র নকল সিল বসিয়ে অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছে।

রমজান উপলক্ষে ঘিয়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর তৈরি এসব ভেজাল ঘিয়ে এখন সয়লাব হয়ে পড়েছে আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজার, বটতলী রুস্তমহাট, বন্দর কমিউনিটি সেন্টার, ভিংরোল ছত্তারহাট, মালঘর বাজার ও আনোয়ারা সদরের জয়কালী হাটসহ বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ দোকানে খুচরা ও পাইকারি দরে ভেজাল ঘি বিক্রি হচ্ছে। ভেজাল ঘিয়ের মধ্যে বিন্টু ঘি, বাঘা বাড়ি ঘি, থ্রি স্টার ঘি, রূপসা ঘি, কর্ণফুলী ঘি, এসপি ঘি, ভিআইপি ঘি, শাহি স্পেশাল গাওয়া ঘিসহ অন্তত ২০টি ভুঁইফোড় ও অবৈধ কোম্পানির ঘি বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ঘি তৈরির সঙ্গে যুক্ত এমন এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলার বৈরাগ, চাতরী, জুঁইদন্ডী, বটতলী, শোলকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫-৬টি ভেজাল ঘি’য়ের কারখানা আছে। এর বাইরে শহরের বিভিন্ন কারখানা থেকে উৎপাদিত ঘি নগরের পাশাপাশি এ উপজেলার গ্রামীণ হাটবাজারেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

ভেজাল ঘি তৈরি করেন এমন একজন কারিগর বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে ছোট্ট কারাখানা বসিয়ে ভেজাল ঘি বানানো হয়। সাধারণত প্রতিটি কৌটায় ৯০০ গ্রাম ঘি থাকে। এ পরিমাণ ঘি তৈরিতে ৬০০ গ্রাম পাম ওয়েল,২০০ গ্রাম ডালডা ও ১০০ গ্রাম খাঁটি ঘি দেওয়া হয়। এ মিশ্রণে সামান্য পরিমাণে রঙ ব্যবহার করা হয়।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন বলেন, খাদ্যদ্রব্যে মিশ্রণের খুব ভালো রঙ হলেও সেটি দুই মাসের বেশি কার্যকারিতা হারিয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়ে। আর যেহেতু ভেজাল ঘি তৈরি হচ্ছে, তাই সেখানে ভালো রঙ মেশানোর প্রশ্নই আসে না। এ-কারণে এসব ঘি খেয়ে পেটের অসুখ থেকে শুরু করে যকৃতের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুস্তমহাটের এক দোকানি জানান,ভালো মানের প্রতি কেজি ঘিয়ের দাম দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। তবে ভেজাল ঘি কেজিপ্রতি ৭৫০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব ভেজাল ঘি পাইকারি দরে খুচরা বিক্রেতারা ৪০০-৫০০ টাকায় কেনেন। বেশি লাভ হওয়ায় ভালো মানের ঘিয়ের চেয়ে খারাপ ঘি বিক্রিতেই বেশি উৎসাহ ব্যবসায়ীদের।
বাজারে বিক্রির জন্য রাখা ঘিয়ের কৌটায় দেখা গেছে,প্রতিটি কৌটায় ‘১০০ ভাগ খাঁটি ঘি’ বাক্যটি লেখা। সঙ্গে ঘিয়ের নামসংবলিত কাগজে বিএসটিআইয়ের নকল সিল মুদ্রণ করে রাখা হয়েছে। তবে সে কাগজের কোনো কোনোটিতে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা নেই।

বিএসটিআই দপ্তরের আনোয়ারার মাঠকর্মী আবদুল মন্নান বলেন,‘কিছু ভুঁইফোড় অসাধু ব্যবসায়ী আড়ালে থেকে এসব ঘি তৈরি করে বাজারজাত করছে। এর আগে একাধিকবার এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘ভেজাল ঘি তৈরি করার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে শিগগির খোঁজ নিয়ে এসব ভেজাল ঘি উৎপাদনকারী ও বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে।’

আরো পড়ুন