রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩

ভাড়াডিয়া খুনির হাতেই

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৩

চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর আবাসিক এলাকা থেকে মোহাম্মদ কায়েস (৩৩) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতারকৃরা হলেন- মূলহোতা মো. হুমায়ুন কবির ওরফে মাসুদ তালুকদার (৪৫), মো. খোকন ওরফে সোনা মিয়া (৩১), মো. রফিকুজ্জমান সানি মিয়া ওরফে আরফান (২২), মো. নজরুল ইসলাম ওরফে নজু (২৩), মো. রায়হান (২১) ও আব্দুল কাদের (২২)।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে সংবাদ সম্মলনে এ তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি-বন্দর ও পশ্চিম) পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আলী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত চার মাস আগে হত্যার শিকার মো. কায়েস ও গ্রেপ্তার হুমায়ূন কবির মাদক সংক্রান্ত কাজে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছে যায়। মাদকের ব্যাপারে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে আসামি মো. হুমায়ূন কবির প্রকাশ মাসুদ তালুকদার ও মো. কায়েস চট্টগ্রাম চলে আসে। পরে হুমায়ূন রাঙ্গামাটিতে ওই মাদক ব্যবসায়ীর কাছে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে পুলিশের সোর্স বলে আটক করে এবং বেদম মারধর করে। এসময় তার অণ্ডকোষে ইট দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। সেখান থেকে সে কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে চট্টগ্রাম চলে আসে এবং কায়েসই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে তার সোর্সের পরিচয় জানিয়ে দিয়েছে বলে পাহাড়ীরা জানিয়েছে। তাই সেই থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি হুমায়ুন মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় কায়েসকে মেরে ফেলবে।

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩ মাস আগে থেকেই কায়েসকে হত্যার চেষ্টা করে আসছিল হুমায়ূন। কায়েসকে সেটা কখনো বুঝতে দিত না উল্টো বন্ধুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া কায়েসকে দেখা করতে বললে কায়েস কখনও ৩-৪ জন সঙ্গে নিয়ে আসা ছাড়া দেখা করতো না। তাই কয়েকবার কায়েসকে হত্যার চেষ্টা করেও কোন ক্ষতি করতে পারেনি হুমায়ূন। এর মাঝে আসামি হুমায়ুন কায়েসকে কিভাবে হত্যা করবে সে বিষয়ে কায়েসের ঘনিষ্ঠ একজনের সঙ্গে আলোচনা করে। এতে ওই ব্যক্তি এক লাখ টাকা মধ্যস্থায় রাজি হন। পরে গত ২০ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় কায়েসের মোবাইলে ফোন দিয়ে তাকে মইজ্জারটেক আসতে বলে হুমায়ূন। এরমধ্যে আসামি হুমায়ুন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কায়েসকে মেরে ফেলার জন্য তার (কায়েস) ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে তার লোকজন নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলে। কায়েস মইজ্জারটেক এসে হুমায়ুনেরর সঙ্গে দেখা করলে সে তাকে চা-নাস্তা খাওয়ায় এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে ঘোরাঘুরি করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে সন্ধ্যা পার হলে একটি কাজের কথা বলে কায়েসকে সিএনজিতে তুলে কলেজ বাজারের দিকে ঘুরে চরলক্ষ্যা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সিডিএ আবাসিক এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে রাস্তায় সিএনজিতে কায়েসকে বসিয়ে রেখে হুমায়ূন নেমে যায় এবং সে পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত থাকতে বলে মইজ্জারটেক চলে যায়।

‘আসামি হুমায়ুন দ্রুত মইজ্জারটেক থেকে আরেকটা সিএনজি নিয়ে আপ-ডাউন ভাড়ার কথা বলে ঘটনাস্থলে এসে কায়েস বসে থাকা সিএনজির পিছনে এসে অবস্থান করে। পূর্ব পরিকল্পনা মতো সিএনজিতে বসে থাকা কায়েসকে দু’দিক থেকে উপর্যুপরি ছুরি এবং ভোমর দিয়ে আঘাত করতে থাকে। চুরির আঘাতে কায়েস চিৎকার দিয়ে রাস্তার পশ্চিম পাশে সিডিএ আবাসিক ড্রেনের দিকে দৌড় দেয়। সেখানেও হত্যাকারীরা পুনরায় তাকে ধরে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। কায়েসের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে তাকে বহনকারী সিএনজি স্টার্ট করতে দেরি করায় আসামি হুমায়ুন তার ভাড়াকৃত সিএনজিতে চারজনকে তুলে নেয় এবং রায়হান ও জীবন মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তারা সবাই মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।’

এদের মধ্যে মাসুদ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি মামলা রয়েছে। বাকি আসামি জাহিদ তালুকদার পালাতক রয়েছে।

উল্লেখ, গত শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে কর্ণফুলী উপজেলার সিডিএ আবাসিক এলাকায় সড়কের পাশ থেকে মোহাম্মদ কায়েসের মরদেহ উদ্ধার করেছিল কর্ণফুলী থানা পুলিশ।

আরো পড়ুন