সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হত্যা: ২৭ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২২, ২০২১

বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপ ও চীনা সেফকো-৩ পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে মজুরি ও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর গুলি চালিয়ে হত্যা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তাঁরা অতি দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে নিহত শ্রমিকদের এক জীবনের আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ ও আহত শ্রমিকদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণের আহ্বান জানান। সেই সাথে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং শ্রমিক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পুলিশ ও নেপথ্য কারিগরদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান ।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বকেয়া বেতন প্রদান, রমজান মাসে শ্রম ঘণ্টা ১০ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টাতে নামিয়ে আনা, ইফতার ও সেহেরি’র জন্য সময় বরাদ্দের দাবিতে সমাবেশরত নিরীহ শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলি চালানো একটা গর্হিত অপরাধ ও তা একটি সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক। পুলিশ যেখানে জনগণের জান মালের নিরাপত্তা প্রদান করবে, সেখানে পুলিশের এমন কর্মকান্ড ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও অনাচারের শামিল।

এই করোনা মহামারির দূর্যোগে শ্রমিকদের জীবন যেখানে দূর্বিষহ, সেখানে শ্রমিকদের যথা সময়ে মজুরি না দেয়া আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন । এস আলম গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান, তারা কেন এই দূর্যোগের সময় শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রাখবে সেটাও তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিদাতারা হলেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন হায়দার সিদ্দিকী, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরীর কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মো. মঞ্জুরুল কিরবিয়া, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডা. চন্দন দাশ, গণফোরাম চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জানে আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হোসাইন কবির, চবি শিক্ষক মুহাম্মদ আমির উদ্দিন, চবি শিক্ষক জিএইচ হাবীব, গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম জেলা আহ্বায়ক হাসান মারুফ রুমী, চবি শিক্ষক আল রাজী, চবি শিক্ষক মাইদুল ইসলাম, বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার সদস্য সচিব শফিউদ্দিন কবীর আবিদ, সংস্কৃতিকর্মী আনিসুর রহমান নাসিম, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় ইনচার্জ ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য সোমা, বাউলতাত্ত্বিক গবেষক স্বপন মজুমদার, বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, চবি শিক্ষক সুবর্ণা মজুমদার, চবি শিক্ষক সায়মা আলম, চবি শিক্ষক জিহান করিম, নাট্যকর্মী মুবিদুর রহমান, অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাডভোকেট ফাহিম শরীফ খান, অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, গবেষক ও অধিকারকর্মী রোজিনা বেগম, অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাডভোকেট জাবেদ আহমেদ এবং কবি সৈকত দে।

আরো পড়ুন