রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

বিজেএমইএ পরিচালক হলেন মা-ছেলে

প্রকাশিত: সোমবার, এপ্রিল ৫, ২০২১


তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলোর মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএ’র পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ড. রুবানা হক ও নাভিদুল হক। সম্পর্কে তারা মা ও ছেলে। এর মাধ্যমে বিজিএমইএ’র ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো নির্বাচনে মা ও ছেলে দু’জনেই পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজিএমইএ’র ২০২১-২৩ মেয়াদের কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল রোববার (৪ এপ্রিল)। দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঘোষণা হয় ফল। নির্বাচনের ফলে জানা গেছে, রুবানা ও তার ছেলে নাভিদুল দু’জনেই পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে রুবানা হক চলতি মেয়াদের কমিটিতে বিজিএমইএ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. রুবানা হক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী। নাভিদুল হক তাদের ছেলে। নাভিদুল এবারই প্রথম বিজিএমইএ পরিচালক হয়েছেন। তার মা রুবানা বিজিএমইএ’র ইতিহাসে প্রথম নারী সভাপতি। বাবা আনিসুল হকও বিজিএমইএ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিজিএমইএ’র এবারের নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম— এই দুইটি প্যানেল অংশ নেয়। নির্বাচনে পরিচালকের ৩৫টি পদের মধ্যে ২৪টিতে বিজয়ী হয়েছে ফারুক হাসানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। ফলে বিজিএমইএ’র পরবর্তী সভাপতি হচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে এ বি এম সামছুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফোরাম ১১টি পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছে। বর্তমান সভাপতি রুবানা হক এই ফোরামের অন্যতম নেতা। মা ও ছেলে এবার এই ফোরাম থেকে নির্বাচন করেই জয় পেয়েছেন। পরবর্তী বোর্ডে তারা একসঙ্গে পরিচালক পদে থেকে নেতৃত্ব দেবেন।

মা-ছেলে একইসঙ্গে নির্বাচন করে দু’জনেরই জয় পাওয়ার পর কেমন লাগছে— জানতে চাইলে নাভিদুল হক বলেন, এতদিন আমি মায়ের অধীনে কাজ করেছি। নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। আমরা এখন একসঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করব, যেখানে মা এখন আর আমার বস নন। এটি হবে আমার জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, দায়িত্বের ক্ষেত্রে আমি একটি চ্যালেঞ্জে থাকব। সবসময় একটি চ্যালেঞ্জ থাকবে। কারণ আমার বাবা এ সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। মা-ও এই সংগঠনের সভাপতি। দু’জনের সম্মান রক্ষা করে পথচলা হবে আমার বড় লক্ষ্য। ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়েছেন। আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করব।

এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০৪ ভোট পেয়েছেন সম্মিলিত পরিষদের ফারুক হাসান। ১ হাজার ১৫৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন রুবানা হক। তবে তার ফোরামের প্যানেল লিডার এ বি এম সামছুদ্দিন পরাজিত হয়েছেন। রুবানার ছেলে নাভিদুল ৯৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে প্রায় ১০ ঘণ্টার ভোটে ২ হাজার ৩১৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন, যা সংগঠনটির ঢাকা ও চট্টগ্রামের মোট ভোটারের ৮৬ শতাংশ।

আরো পড়ুন