বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

ফুজিরার বন্যা দূর্গত এলাকায় বাংলাদেশীদের খাদ্য সংকট

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৪, ২০২২

জাসেদুল ইসলাম, দুবাই::

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্যা দুর্গত এলাকায় হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছে। ফুজিরার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৬০০০ প্রবাসী শ্রমিক খাদ্যের জন্য হাহাকার করছে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ওই অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ করার উদ্যোগ নিলেও তবে পর্যাপ্ত খাদ্য না থাকায় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

গত ২৭ জুলাই অতিবৃষ্টির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরা, রাস আল খাইমা অঞ্চলে পাহাড়ী ঢল এবং বন্যা দেখা দিলে হাজার হাজার মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

এই সৃষ্ট বন্যায় এক বাংলাদেশি সহ সাত জন এশিয়ান নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেলেও কিছু কিছু অঞ্চলে এখনো জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সব চেয়ে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে প্রবাসী শ্রমিকরা।বন্যার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের মাঝে ।

ফুজিরা অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার লোকের খাদ্য সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। শনিবার সেখানে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে ২ শত প্যাকেটের কিছু খাদ্য সামগ্রী নিয়ে গেলে ক্ষুধার্ত মানুষগুলো খাদ্য নিয়ে টানা হেচরা শুরু করতে দেখা যায়। চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য সামগ্রী বিতরণের জন্য সেখানকার বাংলাদেশ কমিউনিটি বিত্তবান প্রবাসী বাংলাদেশী এবং সরকারের নিকট জরুরী আহবান জানিয়েছে।

সরজমিনে যেয়ে দেখা যায়, যে দিকে তাকাই সেদিকে যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘরবাড়ি দোকানপাট ভেসে যাওয়ায় মানুষ মসজিদে অথবা কিছু কিছু বড় দালানের নিচে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে আশ্রয় নিয়েছে।খাদ্য পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাদের অস্থির দিন কাটছে।

এদিকে বন্যার তোড়ে ভেসে যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশী সাজ্জাদ হোসেনের লাশ দেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে । সাজ্জাদ হোসেনের লাশটি দেশে পাঠানোর জন্য তার পরিবারও বাংলাদেশ মিশনে আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদরশ সমিতির ফুজিরা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হক বলেন, হঠাৎ এই বন্যায় সৃষ্টি কারনে আমাদের অনেক ব্যবসায়ির ক্ষতি হয়েছে। অনেকে তাদের পাসপোর্ট আইডি কার্ড হারিয়েছে। দীর্ঘ দিন করোনার কারনে ব্যবসায়িরা অনেক ভয়াবহ মাধ্যমে দিন কাটিয়েছে। এটি কাটিয়ে না উঠতে আবার বন্যা হওয়ায় প্রবাসীরা কঠিন সময় পার করছে। খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছি। দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গিয়েছে। কিছু কিছু অঞ্চলে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। বাংলাদেশীদের সাথে কথা বলেছি। দুবাই কনস্যুলেট থেকে ওই অঞ্চলে কিছু সংখ্যক প্রবাসীদের খাদ্য সরবরাহ করেছি।

তিনি বলেন খাদ্য সংকট রযেছে। সরকারের উচ্চ মহলের অসহায় প্রবাসীদের খাদ্য সংকট পূরণের জন্য জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন