শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা

পদ পেতে মরিয়া সবাই, কর্মসূচিতে নাই দেখা

প্রকাশিত: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট::

চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলনে নিজেদের শো-আপ করার জন্য হাজার হাজার টাকার ব্যানার, বিলবোর্ড করেছে পদপ্রত্যশী নেতারা। পদের জন্য তারা উঠপড়ে লেগেছে দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন নিয়মিত। কিন্তু শোকের মাস আগস্টে এদের কাউকে সেভাবে দেখা যায়নি দলের কর্মসূচি নিয়ে সরব থাকতে। ছিল না ‘বিএনপির নৈরাজ্য প্রতিরোধে’ কেন্দ্রীয় যুবলীগের ঘোষিত কর্মসূচিতেও।

তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মহানগর যুবলীগের কমিটি ঘোষণা দিবে-এমন খবরে নড়েচড়ে বসেছে পদপ্রত্যশী নেতারা। আবারও শুরু হয়েছে ঢাকায় নেতাদের বাসায়, অফিসে তদবির নিয়ে হাজির হতে। ফলে পদপ্রত্যশী নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পর্যালোচনা করছে দলের হাইকমান্ড।

মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, কেন্দ্র যুবলীগ ঘোষিত আগস্ট মাসে কর্মসূচি নিয়ে পুরো মাসজুড়ে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে সরব ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু। এরপর বিএনপি জামাতের নৈরাজ্য প্রতিরোধে বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে নগরীর রাজপথে জানান দিয়েছেন যুবলীগ মাঠে আছে সেই বার্তা।

এছাড়াও জাতীয় শোক দিবসে হাতেগোনা কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছেন নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমআর আজিম। ছিলেন বিএনপি জামাতের নৈরাজ্য প্রতিরোধে সক্রিয়।

এছাড়াও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের পদপ্রত্যশীদের মধ্যে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ছাড়া আর কোন প্রার্থীকে আগস্ট মাসের কোন কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা যায়নি।

অপরদিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের পদপ্রত্যশীদের মধ্যে নাসির হায়দার বাবুল, মিজানুর রহমান চেয়ারম্যান, আবু তৈয়ব নানা কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ১১৪ জন জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮ জন সভাপতি, ৭৬ জন সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য।

পদপত্যাশীদের মধ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের আধিক্য আছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ফরম জমা দিয়েছেন ৩১ জন। সভাপতি পদে নয় জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রার্থী হয়েছেন।

এদের অনেকেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে ১৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৯ জনসহ মোট ৫২ জন পদপ্রত্যাশী কেন্দ্রে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

নগর যুবলীগের সভাপতি পদে আলোচনায় এগিয়ে আছেন নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, নগর যুবলীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহবায়ক দিদারুল আলম চৌধুরী ও মাহবুবুল হক সুমন, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেবাশীষ পাল দেবু, যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম, হেলাল উদ্দিন, নুরুল আনোয়ার, হাসান মুরাদ বিপ্লব, সুরজিৎ বড়ুয়া লাভু, আরশাদুল আলম বাচ্চু, হাবিবুর রহমান তারেক, আবদুল মান্নান ফেরদৌস, মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন, সুমন দেবনাথ ও হাবিবুর রহমান তারেক।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন—নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন, নুরুল আজিম রনি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আশিকুন্নবী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ভিপি ওয়াসিম উদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসির আরাফাত, আবু মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইলিয়াছ উদ্দিন, আবু নাছের চৌধুরী আজাদ, ইমরান আহমেদ ইমু, শহিদুল কাওসার, ফজলে রাব্বি সুজন ও আলমগীর তালুকদার টিপু ও সাইফুল আলম লিমন।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন— কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক নাসির উদ্দিন মিন্টু, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফারুক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজম শেফু, বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরী।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন— কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম, মাহবুবুল আলম, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান চৌধুরী।

উত্তর জেলার সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন— বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির হায়দার বাবুল, উত্তর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান স্বপন, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজিবুল আহসান সুমন ও নুরুল মোস্তফা মানিক।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন— উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তৈয়ব, উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সন্দ্বীপ মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজান, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুর আলম, চবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম আল নোমান, চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল মনসুর জামশেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ চৌধুরী ও উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন বাবু।

আরো পড়ুন