শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনে তোড়জোড়, আলোচনায় আছেন যারা

প্রকাশিত: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২

আয়াছুল আলম সিফাত, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট::

বাংলাদেশ জাতীয়তাাবাদী দল বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সুপার ফাইভের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছ। এর মাধ্যমে সাবেক ছাত্রনেতা ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের পদায়ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপর আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের।

এরমধ্যে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সম্মেলন অনষ্ঠিত হবে। সেই সমাবেশের পরপরই হয় তো নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হবে। ইতিমধ্যে পদপ্রত্যশীরা তোড়জোড় শুরু করেছে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই এইচ এম রাশেদ খানকে সভাপতি এবং বেলায়েত হোসেন বুলুকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত জনের আংশিক কমিটি করা হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল।

সে সময়ে সাবেক দুই ছাত্রদলের নেতাদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করার ফলে পুরো নগরজুড়ে নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পালন করে রাজপথে সরব ছিল স্বেচ্ছাসেবক দল। পাশাপাশি নগরীর প্রায় সব থানা কমিটিতে ছাত্রদলের সদ্য বিদায়ী নেতাদের মাধ্যমে গঠন করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি।

রাশেদ-বুলু স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘুরে দাড়াই এ সংগঠন। যদিও এর আগে সৈয়দ আজম উদ্দীন সভাপতি ও এসকে খোদা তোতন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে কোন ধরণের সাংগঠনিক সক্রিয়তা দেখা যায়নি।

যার কারণে আসন্ন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রনেতা, রাজপথে সক্রিয় ও চট্টগ্রামের ‘লোকাল’ নেতাদের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, অনেক নেতা চট্টগ্রাম নগরে রাজনতি করলেও তারা চট্টগ্রামের ভোটার নন। এমন নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করলে সামনের আন্দোলন ও নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে। তাই সে সব বিষয় চিন্তা করে কমিটি গঠনের অনুরোধ করেন।

জানা যায়, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমদু চৌধুরীর অনুসারী ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু কোনো দৃশ্যমান কোন নেতার সরাসরি অনুসারী না হলেও সবার সাথে মিলেই রাজনীতি করেন।

আসন্ন নগর কমিটিতে শীর্ষ পদে আসতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাংংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হশেম বক্করসহ কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নবনির্বাচিত নেতাদের সাথে যোগাযোগ ও লবিং শুরু করেছেন অনেকে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, সহ সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মূর্তজা খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দীন নাহিদ, সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া, জহিরুল ইসলাম টুটুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন, আবু বকর রাজু। এছাড়াও নগর ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কমিটির কয়েক জনের নামও শোনা যাচ্ছে শীর্ষ পদে আসার সম্ভাবনাময় তালিকায়।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক সহ-সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন বলেন, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আমার হাতেগড়ি। দলের চলমান দূূর্দিনে রাজপথে আছি, দলের কোন সুুযোগ সুবিধা না পেলেও দলের এই ক্লান্তি সময়ে রাজপথে আছি। আমি আশাবাদী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করবেন এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেপদে দায়িত্ব দেন সে পদেই নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবো।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দীন নাহিদ বলেন, আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল আমাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করেছে কোন লবিং তদবির ছাড়া। বিগত সময়ে ছাত্রদলের নানা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি, এক মুহুর্তের জন্যও সংগঠনের দায়িত্ব অবহেলা করিনি। কোন গ্রুপ নয়, দলের প্রতি ত্যাগ ও মামলা হামলা মূল্যায়ন করে যেন আগামী দিনে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী ও নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ওয়ার্ড ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ছাত্রদলের নানাপদে ছিলাম। স্বেচ্ছাসেবক দলের এই কমিটির সকল কর্মসূচিতে অংশশ নিয়েছি। একমাত্র কারাগারে থাকাকালীন সময় ছাড়া আর কোনো সময়ে দলীয় কর্মসূচিতে অনুুপস্থিত ছিলাম না। আমি সাধারণ সম্পাদক পদে নিজেকে যোগ্য মনে করছি, যার কারণে প্রার্থী হয়েছি। বাকিটা আমার দল ও নেতারা বিবেচনা করবেন।

সভাপতি প্রার্থী বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান বলেন, আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য নগর স্বেচ্ছাসেবকদলকে মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী করতেত হবে। যোগ্য, ত্যাগী ও দলের জন্য যারা এতদিন শ্রম দিয়েছে তাদের মাধ্যমে কমিটি হবে বলে আশাবাদী। আমরা ছাত্ররাজনতি করে এসেছি, নগরীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত সব আমার নগদর্পনে যদি দায়িত্ব দেয় কেন্দ্র, তাহলে স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরো বেশি শক্তিশালী হিসাবে আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসাবে কাজ করার জন্য গড়ে তুলব।

সভাপতি প্রার্থী বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল ও তারেক রহমান সাহেব যখনই যেখানে দায়িত্ব দেয় সেখানে দায়িত্ব পালন করবো। তবে এখনো নগর কমিটি পূর্ণগঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং কেন্দ্রও কোন নির্দেশনা দেয়নি। আমরা কর্মী সভা করবো, কর্মী সভা নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করার জন্যই।

আরো পড়ুন