বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

দক্ষিণ জেলা যুবলীগ: শেষ মুহুর্তের আলোচনায় ছয় প্রার্থী

প্রকাশিত: রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

নগর প্রতিবেদক::

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আসন্ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন নতুন-পুরাতন ছয় নেতা। তাদেরকে নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ। ছয় প্রার্থীকে নিয়ে আলোচনা চললেও যুবলীগের কেন্দ্রীয় ঘোষিত আগস্ট মাসের কর্মসূচিতে দেখা মিলেনি তাদের।

জানা যায়, শোকের মাস আগস্টে আওয়ামী যুবলীগ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আর এসব কর্মসূচি পালন করার জন্য জেলা যুবলীগের নেতাদের নির্দেশনা দেন। কিন্তু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের পদপ্রার্থী কোনো নেতাকে সেভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।

তবে শোক দিবসের আলোচনা সভা, শোক র্যালীসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। এছাড়াও শোক দিবস উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জামিল উদ্দীন। এছাড়া আর কোনো নেতার কোন ধরনের কর্মসূচি চোখে পড়েনি। যেখানে নেতারা পদ-পদবীর জন্য লাখ লাখ টাকা পোস্টার, ফেস্টুন ও ঢাকায় গিয়ে নানাভাবে খরচ করছেন। সেখানে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন না করার যৌক্তিকতা কি? তবে কি এসব নেতারা কর্মহীনতা প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে কর্মসূচি পালন করেনি এমন প্রশ্ন সকলের মনে।

সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করছেন, পদ পাওয়ার জন্য দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও সাংসদদের বাসায় বাসায় গিয়ে তদবির না করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পালন করা উচিত। যারা কর্মসূচি পালন করেনি তারা সংগঠনকে ভালোবাসে না, তাদের চাওয়া শুধু পদ। তাদের কাছে সংগঠন কোনভাবেই নিরাপদ নয়।

দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজ-কলমে সভাপতি-সম্পাদক পদে ৩৫ জন প্রার্থী থাকলেও সব দিক বিবেচনায় আলোচনায় আছেন ৬ জন নেতা। এর মধ্যে সভাপতি পদে তিনজন আর সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন তিনজন। সভাপতি পদে আলোচিত প্রার্থীরা হলেন-জেলা যুবলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথি চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মোহাম্মদ ফারুক এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক নাছির উদ্দীন মিন্টু।

পার্থ সারথী চৌধুরী::

সাতকানিয়ার বাসিন্দা পার্থ সারথী চৌধুরী কোন নেতার গ্রুপ না করলেও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সকলের পছন্দ করেন তাকে। আওয়ামী লীগ এক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে অবৈধ কোন সুযোগ সুবিধা তিনি নেননি। বরং শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছিলেন কোন ভাইয়ের রাজনীতি চলবে না। কোন ভাইয়ের সুপারিশে অযোগ্য, বিতর্কিতদের পদ দিয়ে খাঁটি মুজিব আদর্শের সৈনিকদের বাদ দেওয়ার রাজনীতি যুবলীগ করবে না।

যদি কোন গ্রুপ বা প্রভাবশালী কোন নেতার সুপারিশে কমিটি না হয়ে দলের জন্য যোগ্য, ত্যাগীদের মাধ্যমে কমিটি হয়ে থাকে তাহলে পার্থ সারথি চৌধুরী সভাপতি পদে অনেকটা এগিয়ে। কারণ তাঁর রয়েছে ক্লিন ইমেজ।

মোহাম্মদ ফারুক::

সভাপতি পদের আরেক প্রার্থী পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ছিলেন। ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন শেষে দীর্ঘদিন ছিলেন সক্রিয় রাজনীতি করেননি। এক সময় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এরপর ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আবদুল মালেক জনি হত্যার ঘটনায় তাঁর ইন্ধন রয়েছে বলে শোনা যায়। তবে জনির পরিবার তাকে আসামি করলেও প্রভাবশালী এক নেতার সুপারিশে তার নাম জনি হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হলে বাবুপুত্র ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হন। সভাপতি পদে প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ২০১০ সালের পর কেন রাজনীতিতে ছিলো না তাঁর কারণ জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। যার কারণে যুবলীগের চেয়ারম্যান বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। কারণ ২০১৪ সালে রাজনীতিতে এক কঠিন অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সারাদেশে বিএনপি – জামাতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন সংগ্রামে উত্তাল ছিল দেশ। সে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি প্রয়োগ করে মাঠ দখলে রাখতে সক্ষম হলেও ঝরেছে অনেক ঘাম। সে সময়ে যারা সক্রিয় ছিল না রাজনীতিতে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রীর সমর্থনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএর বোর্ড সদস্য হয়েছেন মোহাম্মদ ফারুক।

সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ ফারুক ডাক্তারের চেম্বারে আছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

নাছির উদ্দীন মিন্টু::

সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা নাসির উদ্দীন চৌধুরী মিন্টু সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক। তিনি আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়ার অনুসারী।

নাছির উদ্দীন মিন্টু স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি, কলেজ, উপজেলা ও জেলা ছাত্রলীগে নানা সময়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য ও পরবর্তী সম্পাদকীয় পদে ছিলেন। এরপর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত সেটা না হলেও ছিলেন সাতকানিয়া পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। সভাপতি পদে অন্য যে কোন প্রার্থীর তুলনায় নাছির উদ্দীন মিন্টুর বিষয়ে কোনো ধরণের সমালোচনা নাই। যার কারণে সভাপতি পদে তিনি অনেকটা এগিয়ে আছেন।

যোগাযোগ করা হলে নাছির উদ্দীন মিন্টু বলেন, বাবু ভাইয়ের সাথে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছিলাম। এরপর যুবলীগের রাজনীতি করেছি। যুবলীগ এখন সারাদেশে একটি মানবিক যুব সংগঠন হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। আশা করি নতুন কমিটিতে স্বচ্ছে ইমেজ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।

সাধারণ সম্পাদক পদে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রনেতা জামিল উদ্দীন।

আবু সাদাত মো. সায়েম::

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পিতা প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর অনুসারী। তার বাড়ি পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নে।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বেঁচে থাকতে দক্ষিণ চট্টগ্রামে ছাত্রলীগে তাঁর বিশ্বস্ত ছাত্রনেতা ছিলেন সায়েম। যার কারণে দলীয় অভ্যন্তরীণ গ্রুপের নেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাড়ায় সায়েমের প্রতি বাবুর বিশ্বস্ততা। কিভাবে সায়েমকে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর কাছ থেকে দূরে সরানো যায় সে পরিকল্পনা করে দলের একটা অংশ। এরমধ্যে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মৃত্যুবরণ করলে অসহায় হয়ে পড়েন বাবুর এক সময়ের বিশ্বস্ত ছাত্রনেতা আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। মৃত্যুর পরও নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অন্য কোন নেতার বলয়ে রাজনীতি না করে এখনো বাবু পরিবারের উত্তরাধিকার সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজনীতি করছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিশাল একটি অংশ নিয়ে সক্রিয় রাজনীতি করে আসছেন।

যারা আওয়ামী লীগের দুর্দিনের সঙ্গী সে সব ছাত্র-যুব নেতাদের সংগঠিত করে রেখেছেন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে কটুক্তি করার কারণে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে এক সময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রী কর্নেল অলি আহমদের উপর হামলা করে নেত্রীর অপমানের প্রতিশোধ নিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী যখন ফটিকছড়িতে প্রকাশ্য জনসভায় শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন তখনই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিবাহিনীর টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত গুডস হিল হামলা করে চালিয়ে তার প্রতিবাদ করেছেন তিনি।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন প্রক্রিয়া শুরু হলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়ে নীরব থাকেননি। সম্মেলন সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন। সমাবেশে তার অনুসারীদের বিশাল মিছিল নজর কেড়েছে সকলের। এছাড়াও শোকের মাস আগস্টের মাসব্যাপী কর্মসূচি নানা আয়োজনে পালন করেছেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, আমি শেখ হাসিনার কর্মী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেছি। কখনো কোনোদিন পদ-পদবীর পিছনে ছুটিনি। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কর্মী হয়েই সারাজীবন থাকতে চাই। তারপরও রাজনীতিতে পরিচয়ের জন্য পদ দরকার, যার কারণে আমি মনে করি সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আমি যোগ্য, সে হিসেবে প্রার্থী হয়েছি। এখন কেন্দ্রীয় যুবলীগ যে সিদ্ধান্ত নেয়, সে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তাই মেনে নিব

সাইফুল ইসলাম::

অপর প্রার্থী বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বোয়ালখালীর সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদের অনুসারী। এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও কখনো যুবলীগ করেননি।

এরমধ্যে দায়িত্ব পেয়েছেন বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে। যদিও সম্মেলনে প্রার্থী হওয়ার পর এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের কাছে সিভিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করার কথা তিনি গোপন করেছেন।এছাড়াও আগে ফেইসবুকে নানা দিবসের পোস্ট ও ফেইসবুক বায়োতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ উল্লেখ করলেও এখন সেটা মুছে দিয়েছেন।

সাইফুল ইসলামের জন্য কেন্দ্রীয় যুবলীগকে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমদ। যদিও সম্মেলনের পর আর কোনো যুবলীগের কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি তাকে।

সার্বিক বিষয়ে সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ছাত্রলীগ করেছি দীর্ঘদিন। এরপর যুবকলীগের কমিটি না হওয়াতে যুবলীগের কোনো পদে ছিলাম না। তবে উপজেলা যুবলীগের কমিটি গঠনে নিজের হাত রয়েছে দাবি করেছেন তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থাকার পরও কেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম না। তবে মোছলেম ভাই ও মফিজ ভাই একটি খসড়া কমিটিতে আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করেছেন। যদিও পরবর্তী আমি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ছিলাম না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেইসবুকে যে সব পোস্টার ব্যানারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিখেছি তা ভুল হয়েছে বা আবেগে লিখেছি বলে দাবি করেন তিনি।

জামিল উদ্দীন::

অপর প্রার্থী জামিল উদ্দীন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার অনুসারী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদের জন্য অনেক লবিং করলেও শেষ পর্যন্ত তা পাননি। এবার ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার হাত ধরে আসতে চান যুবলীগে।

জানা গেছে, শোক দিবসে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সহ কয়েকটি প্রোগ্রাম করেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি হবে তা কেন্দ্রীয় যুবলীগই ঠিক করবে। তবে দলের জন্য ত্যাগী, মাঠ পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য আছে এমন প্রার্থীদের হাতে যুবলীগের নেতৃত্ব চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কোন ভাইয়ের প্রেসক্রিপশনে যেন অযোগ্য, বিতর্কিত ও নিস্ক্রিয়দের স্থান না হয় মানবিক যুবলীগের স্বীকৃতি পাওয়া এই সংগঠনে এমনটা আশা যুবলীগের নেতাদের।

কোন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘চট্টগ্রামের তিন জেলায় পরিচ্ছন্ন নেতাদের হাতেই নেতৃত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন অপকর্মে ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত নেতারা কমিটিতে স্থান পাবে না।’

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতারা বিভিন্ন অপকর্মে ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা চাই না, তাদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাক।’

আরো পড়ুন