বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২

দক্ষিণ জেলা বিএনপি: ব্যর্থ হয়েও দায় নিতে নারাজ সুফিয়ান-মোস্তাক

প্রকাশিত: রবিবার, জুন ১২, ২০২২

নগর প্রতিবেদক::

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির অব্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোর জন্য ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরুতে নগর বিএনপির তৎকালিন সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানকে আহবায়ক করে ৬৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ঘোষণা দিয়েছেন ৬ মাসের মধ্যে সকল ইউনিট কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। কিন্তু সেই ঘোষণা থেকে গেছে ঘোষণাতেই। আর বিরোধ মেটানোর দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরোধ তো মেটেনি বরং বিরোধ সৃষ্টির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে আহবায়ক-সচিব।

আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করার পর কয়েক মাস দলীয় কার্যক্রমে ৬৫ সদস্যের প্রায় সকলে অংশ নিলেও তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ফলে দলীয় কর্মসূচিতে এখন ৬৫ জনের কমিটির হাতেগোনা তিন চারজনের বেশি কোনো সদস্য উপস্থিত থাকেন না। এতে করে দিন দিন বিরোধ চাঙা হয়ে উঠছে দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে। দলীয় কর্মসূচিও সঠিক সময়ে পালন করতে পারছে না দায়িত্বশীল নেতারা।

কিন্তু এই ব্যর্থতার দায় নিতে নারাজ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান ও সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান। গতকাল ১১ জুন ছিল বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত জেলা পর্যায়ে গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। কেন্দ্র ঘোষিত এই কর্মসূচি পালন করতে পারেনি চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিট বিএনপি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশে অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহব্বায়ক আবু সুফিয়ান। কিন্তু একদিন পর শনিবার জেলা বিএনপির সমাবেশ হওয়ার কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকলেও সেটা পালন করতে পারেনি সংগঠনটি।

এর কারণ জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা দলীয় কার্যালয়ের বাইরে মিটিং করার জন্য অনুমতি চেয়েছি প্রশাসনের কাছে, কিন্তু তারা দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে করার জন্য বলাতে আমরা করিনি।
তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনারের সাথে দেখা করে বিষয়টি জানাবো। এরপর আমরা কয়েকদিন পর বাইরে বড় করে এই কর্মসূচি পালন করবো।

তবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খানের সাথে ১১জুন-১২ জুন রবিবার বিকেল পর্যন্ত মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ এ যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব নিজেদের মতো করে সংগঠন চালাচ্ছেন। সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম যেভাবেই বলছে তারা সেভাবে ইউনিট কমিটি গঠন করেছেন। ফলে ঘোষিত ইউনিট কমিটি নিয়ে চলছে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে আনোয়ারা উপজেলা, সাতকানিয়া উপজেলা, সাতকানিয়া পৌরসভা ও বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির কমিটিতে চরমভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। ফলে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তারা।

এছাড়াও সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে এলাকায় তৃণমূল নেতারা ঝাড়ু মিছিল করে। ক্ষোভ থেকে বাঁচতে অনেকটা আড়ালে চলে যান দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান। এরপর থেকে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিতে তাকে আর দেখা যায়নি।

এরআগে ২০২০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর বিভিন্ন ইউনিটের নয়টি কমিটি ঘোষণা করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি। এসব ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে একপেশে কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে ৫ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক আলী আব্বাসের নেতৃত্বে দলের একাংশ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএনপি কমিটি থেকে তাদের শোকজ করা হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলী আব্বাস, সদস্য অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দীন ও লিয়াকত আলী। একই কারণে সদস্য মজিবুর রহমানকে সতর্ক করা হয়েছে।

এরপর সর্বশেষ আনোয়ারা উপজেলা, সাতকানিয়া উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি ঘোষণা করলেও নতুন করে আবারো বিতর্কের মুখে পড়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

আরো পড়ুন