শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

তুুমি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একজন এই পৃথীবিতে

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২

মিথিলা ফারজানা হক

আত্মহত্যা একটি বিশ্বব্যাপী ঘটনা, যা সব বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করছে । বাংলাদেশে আত্মহত্যার হার এবং আত্মহত্যা প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর ৭ লাখ তিন হাজার মানুষ নিজের জীবন শেষ করে এবং আরও অনেকে শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করে থাকে ৷ প্রতিটি আত্মহত্যা একটি ট্র‍্যাজেডি যা পরিবার, কমিউনিটি এবং সমগ্র দেশকে প্রভাবিত করে এবং যেটার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “পারিবারিক নির্যাতন, কলহ, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, পরীক্ষা-প্রেমে ব্যর্থতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, প্রাত্যহিক জীবনের অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয় ও মাদক ইত্যাদি কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন”।

একজন ব্যক্তি কতটা তীব্র কষ্ট এবং ব্যাথা থেকে নিজেকে শেষ করে ফেলার মতো একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সেটি হয়তো আমাদের কারও পক্ষেই তার জায়গা থেকে বোঝা সম্ভব নয়। তাই ” আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়, ” আত্মহত্যা মহাপাপ ” এইসব বলা থেকে দয়া করে বিরত থাকতে আমি অনুরোধ করব সবাইকে। বরং যথেষ্ট সহানুভুতি এবং সহমর্মিতার সাথে ব্যাক্তিটির পাশে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশে মানসিক সেবা প্রদান করে এমন অনেক অর্গানাইজেশন গড়ে উঠেছে এবং তারা যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছে সেবা প্রদান করতে যেটা আশার আলো হিসেবে দেখি আমি। তবে, পরিবার, কাছের মানুষ, বন্ধুদের সাহায্য সহমর্মিতা এবং কেয়ার অনেক বড় ভুমিকা পালন করে ব্যক্তির জীবনে৷ বিশেষ করে টিনেজ বা Adolescence পিরিয়ড টাতে সন্তানের সাথে বাবা – মায়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিকল্প নেই। পাশাপাশি বন্ধু, শিক্ষক প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ কেয়ার এবং শেয়ার করার একটি নিরাপদ জায়গা গড়ে তোলার ভুমিকা অপরিসীম।

কারও মধ্যে যদি আচরণের কোন পরিবর্তন হয়, তার স্বাভাবিক যেই লাইফস্টাইল সেটাতে পরিবর্তন দেখা দেয়, কথা বলা কমিয়ে দিচ্ছে, খাওয়া দাওয়া কম করছে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে, ঘুম কমে যাচ্ছে এই লক্ষণ গুলি আপনি যদি আপনার বন্ধু বা কাছের মানুষের মধ্যে দেখতে পান সেক্ষেত্রে তার সাথে বসুন এবং কথা বলে তার মানসিক অবস্থা জানার চেষ্টা করুন ( অবশ্যই অবশ্যই তার প্রতি সর্বোচ্চ সহানুভূতিশীল থাকুন) এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অবশ্যই একজন সাইকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ নিন ।

সবশেষে বলতে চাই, জীবন চলমান, চলার পথে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক সবকিছুর মধ্য দিয়ে আমরা যাই। জীবনের একটি সমস্যা ও পার্মানেন্ট হয়না । হয়ত আজকে আপনি সাংঘাতিক একটা খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেটি কখনোই আপনার জীবনে পার্মানেন্ট হবে না অবশ্যই এটা একটা শেষ রয়েছে৷ কিন্তু আমরা যখন খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়ে থাকি আমরা ভাবতে থাকি মনে হয় এই সমস্যা টি আর কখনোই শেষ হবে না। তাই আমি বলব খারাপ সময়ে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করা কারণ এর পরেই জীবনে অবধারিত ভাবেই ভালো সময় গুলি এসে ধরা দিবে। কাজেই খারাপ সময়ে ধৈর্য্য ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন, প্রয়োজনে শেয়ার করুন আপনার বিশ্বস্ত এবং আপনি নিরাপদ মনে করেন এমন কাউকে। সেই মানুষ টি হতে পারে আপনার পরিবারের কেউ, আপনার প্রিয়জন, বন্ধু কিংবা আত্মীয়৷ শেয়ার করার মাধ্যমে সমাধান খুজে পেতে আপনার সহজ হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অবশ্যই অবশ্যই একজন সাইকোলজিস্ট এর পরামর্শ নিন৷

আরো পড়ুন