শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

তুমব্রু সীমান্তের ওপারে প্রচন্ড গোলাগুলি, বিজিবির টহল জোরদার

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি::

বান্দরবানের ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের প্রচন্ড গোলা গুলির শব্দ শুনা যাচ্ছে। এছাড়া বিকট শব্দের কারনে কেঁপে উঠছে সীমান্তের জনপদ।গত একদিন বন্ধ ছিল গোলাগুলি।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েকশ রাউন্ড গোলা গুলির শব্দ শুনেছ বলে তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী সৈয়দ হোসেন জানিয়েছেন।প্রায় ৫০টি অধিক মর্টার সেল বিস্ফোরণ হয়।সীমান্তের কাছাকাছি মার্টির ঘর গুলো কেঁপে উঠে।

গত কয়দিনের তুলনায় আজ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি টহল বাড়ানো হয়েছে।বিভিন্ন পয়েন্ট গুলোতে
চৌকি সামনে যাত্রীবাহি গাড়ী তল্লাশি চালানো হচ্ছে।কাউকে সন্দেহ হলে গাড়ী থেকে নামিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, একদিন শান্তিতে ছিলাম। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে বিকাল সাড়ে টা পর্যন্ত মুহু মুহু বিকট শব্দ শুনেছি।ভয়ে ছেলে মেয়েরা বাড়ী থেকে বের হয না।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি থাকা লোকজন কে এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি।তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে গোলা গুলি বেশি।এ কারনে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

একই গ্রামের ইমাম হোসেন আগে তুমব্রু বাজারের দোকান ১১টার দিকে বন্ধ করত। এখন এশার আজান দেওয়ার সাথে সাথে বন্ধ করে চলে যায়।আজ বৃহস্পতিবার স্কুল গুলো বন্ধ ছিল।

তৃমব্রু বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান বলেন অন্যদিনের তুলনায় আজ কে বেশি গোলাগুলি শব্দ শুনেছি।বাড়ী ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না। জলপাই তলী গ্রামের মোহাম্মদ হাসান(৬৫)বলেন সকাল বেশি বিকট শব্দ শুনেছি।ওপারে কি অবস্থা বুঝা যাচ্ছে না।তবে বেশি ভয় হচ্ছে।

তুমব্রু মধ্যম পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান(৫২)বলেন ভয় লাগলে কি করব।কিছু করে খেতে হবে। কয়দিন ধরে গোলা গুলির কারনে নিজের চাষের জমিতে যেতে পারছি না। সীমান্তের কাছাকাছি ক্ষেত কামারের যেতে পারছেন না কৃষক। গত দেড় মাসের চেয়ে বেশি বাংলাদেশ -মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে চলছে যুদ্ধ। এ কারনে সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী লোকজনের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। সীমান্তের মানুষ গুলো ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না।কিছু কিছু মানুষ আত্নীয় স্বজনের বাড়ীতে চলে গেছে।কেউ এ বিষয়ে গনমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হয়নি।

ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, হেডম্যান পাড়া,কোনার পাড়া, জলপাই তলী রেজু, আমতলী, ফাত্রাঝিরি, চাকমাপাড়াসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাড়ানো হয়েছে।

একই দিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়ার একাধিক সীমান্ত পয়েন্টের ওপারে মিয়ানমারের প্রচন্ড গোলা গুলির শব্দ শুনেছেন বলে উখিয়ার আন্জুমান পাড়া গ্রামের টমটম চালক আবুল বাশার।একই গ্রামের এনজিও কর্মী শামসুর নাহার মিশু বলেন সকালে বেশ কয়েক টি বিকট শব্দ শুনেছি।

জানা যায, উখিয়ার আন্জুমান, রহমতের বিল,ধামনকালী বালুখালী ও ফারির বিল সহ আরো বেশ কিছু গ্রামের লোকজন আতংকে রয়েছে।সীমান্তের কাছাকাছি তাদের চিংড়ি ঘের।এখানকার মানুষ নাফ নদী তে মাছ শিকার করতে যায।স্হানীয় ইউপি সদস্য জাফরুল ইসলাম বলেন গোলা গুলির শব্দ বেড়েছে।মানুষ আতংকিত।

এ ব্যাপারে উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন আমি কক্সবাজারের আছি।সেখানে গিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

গত একমাস ধরে তুমব্রু সীমান্তের মিয়ানমার অংশে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে মিয়ানমার সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। দুপক্ষের সংঘাতের মধ্যেই মর্টারশেলের গোলা এবং ভারি অস্ত্রের গুলি এসে পড়ছে বাংলাদেশ ভূখন্ডের তুমব্রু সীমান্তে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সকাল থেকে আবারও থেমে থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

আরো পড়ুন