বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

ডা.শাহাদাত হোসেনের মুক্তি দাবি চসিকের ৫৫ কাউন্সিলর প্রার্থীর

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি সহ ১৭ জন নেতাকর্মীর মুক্তির দাবী জানিয়েছেন সদ্য সমাপ্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ৪১ ওয়ার্ড ও ১৪ সংরক্ষিত মহিলাসহ ৫৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) এক যুক্ত বিবৃতিতে কাউন্সিলর প্রার্থীরা বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক। তিনি ছাত্র রাজনীতির সুদূর পথ অতিক্রম করে লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে আজ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃত্বের পর্যায়ে এসেছেন। তিনি একজন মেধাবী চিকিৎসক। গরীব, দুঃখী, অসহায় মানুষের জন্য তার দরজা সবসময় খোলা, মানবতার সেবায় তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। সর্বোপরি তিনি একজন জননন্দিত জননেতা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৯ মার্চ চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের হওয়া সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট একটি মামলায় শাহাদাত হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। যে মামলাটি দায়ের হয়েছে, সেটি সম্পর্কে চট্টগ্রামের মানুষসহ দেশবাসী সম্যক অবহিত আছেন। পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসন শাহাদাত হোসেনকে হয়রানির উদ্দেশে একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত মহিলাকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা গ্রহণ করে। সবচেয়ে মর্মান্তিক হচ্ছে, হাসপাতালে রোগী দেখা অবস্থায় পুলিশ হাসপাতাল ঘিরে শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। এ ধরনের জঘন্য কাজের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। দেশে এখন করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ চলছে। যে সময়ে শাহাদাত হোসেনের মতো একজন মেধাবী চিকিৎসকের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা ছিল তাদের জীবন রক্ষার জন্য, সেসময় সরকার ও প্রশাসনের রোষানলে পড়ে তাকে কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে দিন পার করতে হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা আওয়ামী সরকার যে কোনো পন্থায় বিএনপিকে দমন করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়। সেজন্য ডা.শাহাদাত হোসেনের মতো জনপ্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি করে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। অসংখ্যবার তিনি কারাবরণ করেছেন। পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাকে দমানো যায়নি। মামলা-হামলা, গ্রেফতার ও কারাবরণ উপেক্ষা করে তিনি রাজপথে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে সরব আছেন। চট্টগ্রামে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে তিনি বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্যই বারবার তাকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং সর্বশেষ একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইদিন কাজীর দেউরীতে পুলিশ হামলা চালিয়ে বিএনপির সমাবেশ ভন্ডুল করে। আবার সেই পুলিশই কোতোয়ালি থানায় দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে,যাতে আসামি করা হয়েছে বিএনপিনেতা মাহবুবের রহমান শামীম, আবুল হাশেম বক্কর, আবু সুফিয়ান, এস এম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, শাহ আলমসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের। ক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের ফ্যাসিবাদি আচরণ অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মানুষের সহ্যের সীমা আজ ছাড়িয়ে গেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। সেই নির্বাচনে নগরবাসী ভোট দিতে পারেনি। পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের গুণ্ডারা ভোটকেন্দ্র দখল করে, বিএনপির প্রার্থী, এজেন্ট ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কায়দায় ভোটকেন্দ্র ছাড়া করে একটি প্রহসনের নির্বাচন সম্পন্ন করে। সেই নির্বাচনে জোরপূর্বক হারিয়ে দেওয়া হয়েছে শাহাদাত হোসেন এবং বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের। কিন্তু চট্টগ্রামবাসী সেই নির্বাচন মেনে নেয়নি। প্রশাসনকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে যাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, তারা কেউ চট্টগ্রামবাসীর মনে স্থান পায়নি। জনতার মেয়র শাহাদাত হোসেনই। চট্টগ্রাম নগরবাসীর এই অকুণ্ঠ সমর্থন, শাহাদাত হোসেনের জনপ্রিয়তা, লড়াই-সংগ্রামে অদম্য সাহসের কারণে তিনি সরকারের রোষানলে পড়েছেন। জনপ্রিয়তাই আজ তার জন্য কাল হয়েছে। এজন্য বারবার নানা ছলছুতোয় তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করে নির্যাতন করছে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার। আমরা সরকারের এ অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।

নেতৃবৃন্দ কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ডা. শাহাদাত হোসেন ও মনোয়ারা বেগম মনিসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদেরকে মুক্তি দিয়ে করোনাকালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

বিবৃতি দিয়েছেন ১নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলাম রাশেদ, ২নং ইয়াকুব চৌধুরী, ৩নং মো, ইলিয়াছ, ৪নং মাহবুবুল আলম, ৫নং মো, আজম, ৬নং হাসান লিটন, ৭নং ইস্কান্দার মির্জা, ৮নং হাসান চৌধুরী ওসমান, ৯নং আব্দুস সাত্তার সেলিম, ১০নং রফিক উদ্দিন চৌধুরী, ১১নং সোহরাব হোসেন সৌরভ, ১২নং শামসুল আলম, ১৩নং জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, ১৫নং চৌধুরী সাইফুদ্দিন রাশেদ সিদ্দিকী, ১৬নং একেএম সালাউদ্দিন কাউসার লাবূ, ১৭নং একেএম আরিফুল ইসলাম ডিউক, ১৯নং ইয়াসিন চৌধুরী আছু, ২০নং লিয়াকত আলী, ২১নং আবু মহসিন চৌধুরী, ২২নং এম এ মালেক, ২৩নং মো, মহসিন, ২৪নং এস এম ফরিদুল আলম, ২৫নং শহীদ মো. চৌধুরী, ২৬নং আবুল হাশেম, ২৭নং মোহাম্মদ সেকান্দর, ২৮নং জামাল উদ্দীন জসিম, ২৯নং মো. সালাউদ্দীন, ৩০নং হাবিবুর রহমান, ৩১নং দিদারুর রহমান লাভু, ৩২নং নুর মো, লেদু, ৩৩ নং সাদেকুর রহমান রিপন, ৩৪নং ইসমাইল বালি, ৩৫নং এড. তারিক আহমদ, ৩৬নং মো. হারুন, ৩৭নং মোহাম্মদ ওসমান, ৩৮নং হানিফ সওদাগর, ৩৯নং সরফরাজ কাদের রাসেল, ৪০নং মোহাম্মদ হারুন, ৪১নং নুরুল আবছার, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রোকসানা বেগম মাধু, শাহেনেওয়াজ চৌধুরী মিনু, জিন্নাতুন নেছা জিনিয়া, সকিনা বেগম, খালেদা বোরহান, মাহমুদা সুলতানা ঝর্ণা, এড. পারভিন আকতার চৌধুরী, আরজুন নাহার মান্না, জেসমিনা খানম, কামরুন নাহার লিজা, সাহিদা খানম, মনোয়ারা বাবুল, জাহিদা হোসেন প্রমূখ।

আরো পড়ুন