শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

চট্টগ্রামে আওয়ামী রাজনীতিতে উজ্জ্বল উত্তরাধিকার

প্রকাশিত: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২

মো. মহিউদ্দীন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট::

রাজনীতিতে উত্তারাধিকারের রাজনীতি বেশ পুরনো। অনেকে উত্তারাধিকার সূত্রে রাজনীতিতে আসলেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজস্ব ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বে। চট্টগ্রামের উত্তারাধিকার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের আগামীর সম্ভাবনায় উত্তারাধিকারদের নিয়ে আজকের আয়োজন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ::

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পুত্র। ২০১২ সালে পিতার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে আসেন তিনি এবং বাবার আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন। এরপরে দশম সংসদে নির্বাচিত হয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জাবেদ একজন পরিচ্ছন্ন সৎ ও মেধাবী রাজনৈতিক হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়কে তিনি আধুনিক ও ডিজিটাল রূপ দিয়েছেন।

ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসাবে নিজের আলাদা ইমেজ গড়ে তুলেছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

জাবেদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁর পিতা প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন আওয়ামী লীগের দূঃসময়ের একজন নেতা। আগামীতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল::

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবং মহানগর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে। রাজনৈতিক যাত্রাও শুরু হয় চট্টগ্রাম মহানগর থেকে। যদিও এক-এগারোর সময়ে লন্ডনে অবস্থানরত বিদেশি আইনজীবী ও অর্থনীতিবিদদের একত্রিত করে শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের বাইরে জনমত তৈরির ভূমিকা রেখেছেন রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠা নওফেল। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাবার পক্ষে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী রাজনীতিতে পিতা মহিউদ্দীন চৌধুরীর মতো নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন নওফেল।

২০১৪ সালে ৭১ সদস্যের নগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য করা হয় নওফেলকে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি সর্বকনিষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ আসন খ্যাত কোতোয়ালি বাকলিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থান করে নেন মন্ত্রী সভায়। বর্তমানে শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামীতে জাতীয় রাজনীতিতে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় নেতার দৌড়ে শুরুতেই আছেন নওফেল।

ওয়াসিকা আয়শা খান::

আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাষ্ট্রদূত আতাউর রহমান খান কায়সারের কন্যা। তিনি পর পর দুই জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য।

আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক, মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য। অত্যন্ত মেধাবী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন একজন রাজনীতিবিদ। পিতা ও মাতার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে তিনি এখন জায়গা করে নিয়েছেন।

চট্টগ্রামের তরুণ রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম বিশ্বস্থ একজন মনে করা হয় ওয়াসিকা আয়শা খানকে।

সবচেয়ে চমক হচ্ছে তার পিতা আতাউর রহমান খান কায়সার ৩২ বছর আগে ১৯৮৭ সালে আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাবার সেই পদে প্রথম নারী হিসাবে জায়গা করে নিয়েছেন ওয়াসিকা আয়শা। পাশাপাশি তাঁর মা মহীয়সী নারী বেগম নিলুফার কায়সার ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।

খাদিজাতুল আনোয়ার সনি:

ফটিকছড়ির জনপ্রিয় নেতা রফিকুল আনোয়ারের কন্যা ও একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

বাবা রফিকুল আনোয়ারের মতোা ফটিকছড়ির গণমানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে চান সনি।

পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও। উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনীতিতে আসা এই নেত্রীর আগামীতে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নিজের জায়গা আরো পাকাপোক্ত করার সুযোগ আছে পিতার সুনাম কাজে লাগিয়ে।

এস এম আল মামুন :

সাবেক প্যানেল স্পিকার ও সীতাকুণ্ড আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আবুল কাশেম মাষ্টারের সন্তান মামুন বর্তমানে সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

আগামী নির্বাচনে পিতার আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন তিনি। গতবার মনোনয়ন চাইলেও তিনি পাননি। আগামীতে পিতার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে চান তরুণ এই নেতা।

চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব:

যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের জনপ্রিয় নেতা সুলতানুল কবির চৌধুরীর সন্তান গালিব বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

আগামীতে চট্টগ্রাম দক্ষিণে যে সব তরূণ নেতার উত্থান দেখা যাবে তার মধ্যে গালিব অন্যতম বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

আফতাব খান অমি::

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আকরাম খান দুলালের সন্তান আফতাব খান অমি। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ্য হিসাবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

আফতাব খান অমি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে সন্দ্বীপ আসনের সদ্য সাবেক সদস্য ও সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তরুণ এই নেতা জেলা পরিষদ সদস্য থাকাকালীন সন্দ্বীপ উপজেলায় নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। আগামী দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে আলো ছড়াতে পারবেন তিনি এমন ধারণা সন্দ্বীপের তরুণদের।

ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আসিফ::

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পথিকৃৎ বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নেতা ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন আহমেদের পুত্র ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আসিফ।

নিজ উপজেলা চন্দনাইশ সংসদীয় নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন আসিফ ইমতয়িাজ।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন বিশেষজ্ঞদের যে শক্তিশালী টিম কাজ করেছে, সে টিমের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন ব্যারিস্টার আসিফ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চন্দনাইশ আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপকমিটির সদস্য তিনি। আগামীতে পিতার মতো চন্দনাইশের জনগণের ভাগ্যন্নয়ে কাজ করতে চান তিনিও।

নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন::

পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর পুত্র। সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আলোচিত হয়েছেন সারাদেশে।

রাজনীতি ও ব্যবসায় সমানতালে কাজ করে এগিয়ে যাচ্ছেন শারুন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য শারুন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগে পিতার অংশ নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রায় পোস্টার ব্যানারে এখন শোভা পায় তাঁর ছবি। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণেই তিনি বেশ পরিচিত পেয়েছেন সারাদেশে।

ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল রহমান রুহেল::

চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির এই সময়ের কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মীরসরাই আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পুত্র।

পিতা ইঞ্জি. মোশারফ হোসেনের পরেই মীরসরাই আসনে আওয়ামী রাজনীতির ভবিষ্যত মনে করা হয় রুহেলকেই।

রুহেল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তিনি। পাশাপাশি বাবার সঙ্গে মিরসরাই আওয়ামী লীগের হাল ধরছেন তিনি! আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রুহেল স্টার সিনেপ্লেক্সের কর্ণধার।

ফারাজ করিম চৌধুরী:

ফারাজ করিম চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চট্টগ্রামের একজন জনপ্রিয় তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সন্তান।

নানা সামাজিক কাজ করে পুরো দেশের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন ফারাজ করিম চৌধুরী।

করোনা মহামারী ও বন্যা পরিস্থিতিতে দেশের নানা প্রান্তে কাজ করে সাধুবাদ পেয়েছেন সর্বমহলে।

আগামীতে আওয়ামী লীগ তথা পিতার মতো জনসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিবেন তিনি এই প্রত্যশা তরুণদের।

আরো পড়ুন