শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

গুইমারায় পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য থামছেই না

প্রকাশিত: শনিবার, আগস্ট ৬, ২০২২

গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশে মোট ভূমির এক পঞ্চমাংশ পাহাড়ি অঞ্চল। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৮% পাহাড়ি অঞ্চল অবস্থিত। বাকি ১০% অবস্থিত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় টিলা রয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলানিকেতন এই টিলা পাহাড় দেশি বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অথচ এই টিলা কেটে পাহাড় ধ্বংস ধ্বংসে মেতে উঠেছে অনেকে। মানুষের আগ্রাসী থাবায় শত শত বছরের ঐতিহ্য আজ অস্তিত্ব হীনতার পথে।

অথচ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ধারা ৬ এর (খ) স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কতৃর্ক সরকারী বা আধা-সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাবে না।

কিন্তু তথ্য বলছে ভিন্ন কথা ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত গুইমারা উপজেলাত অর্ধশতাধিক পাহাড় কাটা হয়েছে।

এক শ্রেণির ভূমিদস্যুরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে সেই পাহাড়গুলোকে সাবাড় করছে। খাগড়াছড়ি গুইমারা উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক পাহাড় কাটা হয়েছে। তবে সেসব নিজস্ব ফায়দা লুটতে পাহাড়ের মাটি কেটে বিক্রি,ইট ভাটা, আবাস্থল গড়ে তোলাসহ নানা স্বার্থে এসব পাহাড়গুলোকে নির্বিচারে বিলীন করে দিচ্ছে।

নিঝুম রাতে চলে বনাঞ্চলের আবৃতে ঘেরা পাহাড় কাটার ধুম। বিগত কয়েক বছরে এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধ শতাধিকের চেয়ে বেশি পাহাড় ও টিলা কেটে সমতল করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে চাপা ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও পারছেন না। প্রভাবশালী মহলটি ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতের আধাঁরে পাহাড়ের মাটি কেটে সাবাড় করে ফেলছে। ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকি মুখে পড়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় গুইমারা উপজেলার ১নং গুইমারা ইউনিয়নের লুন্দুক্যাপাড়া (থানা সংলগ্ন) এলাকার প্রানি সম্পদ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে উঁচু পাহাড়ের মাঝখানে মাটি কেটে করা হয়েছে সমতল। পাশেই অস্থিত হারানোর পাহাড়ের ক্ষত চিহ্ন। সে সঙ্গে পাহাড়ের চূড়ায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিধন করে ফেলছে। প্রকৃতির বুকে মানুষের এমন আচরণে জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে।

প্রায় দেখা যায়, পাহাড়ের মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে অধ্যাধুনিক ভেকু মেশিন। যার মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে পাহাড়ের মাটিগুলোকে কেটে ফেলা হচ্ছে। মাটি কেটে সেগুলোকে টাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেকেই গর্ত বা জমি ভরাট করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে এলাকার শুক্কুর আলী ও রাজন পাল সহ প্রভাবশালী একটি চক্র এতে জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলছেন না। চক্রটি অবৈধভাবে গভীর রাতে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্কুর আলী বিষটি স্বিকার করে জানান, তিনি মাটি বিক্রি করার জন্য একটি কন্ট্রাক নিয়েছিলো।

এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল জানান, যেভাবে নির্বিচারে ও অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে তা জনজীবনে হুমকি স্বরূপ। পাহাড়ের তলে কিংবা পাহাড়ে যেসব বাড়িঘর রযেছে ভারী বর্ষণে যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে। এতে ব্যাপক প্রাণহানির আশংকাও রয়েছে।

আরো পড়ুন