শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২

খালেদা জিয়ার অবস্থা আরো ‘ক্রিটিক্যাল’ বললেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, মে ১১, ২০২১

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনও ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১১ মে) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে গিয়ে তিনি এই তথ্য দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনো ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে আছেন খালেদা জিয়া। যদিও অনেক ইম্প্রুভ করেছেন। এখন তিনি রুম এয়ারে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন। অর্থাৎ রুমের মধ্যে তার অক্সিজেন লাগছে না। তার প্রেসার, টেম্পারেচার, অক্সিজেন যেটাকে স্যাচুরেশন বলে এগুলো আপাতত কিছুটা নরমালের দিকে চলে এসছে।’

ফখরুল বলেন, ‘তবে তার কতগুলো বিষয় আছে, যেগুলো এখনও বিপদজনক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তার কিডনির সমস্যা আছে- দ্যাটস এ রিয়েল প্রোবলেম, তার হার্টের সমস্যা আছে। যেটা নিয়ে ডাক্তাররা এখনও অত্যন্ত উদ্বিগ্ন আছেন, তারা চেষ্টা করছেন।’

‘আমরা দলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে এভারকেয়ার হাসপাতাল সর্বাত্মক আন্তরিকতা নিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন। তারা কোনো কিছু বাকি রাখছেন না। এমনকি তারা বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসছেন। এছাড়া দেশের বাইরেও তারা যোগাযোগ রাখছেন বড় বড় চিকিৎসকের সঙ্গে’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটা আপনারা জানেন; ইভেন দ্য প্রাইভেট হসপিটালস আর নট প্রোপারলি ইকোইপ্ট। একমাত্র এভারকেয়ার হাসপাতাল সবচেয়ে বেশি টেকনোলজিক্যাল দিক থেকে উন্নত। তারপরেও এনাফ নয়। ওরা নিজেরাই মনে করে যে, অনেক লিমিটেশনস আছে। সেই লিমিটেশনগুলো দেখে খালেদা জিয়ার পরিবার উনাকে বাইরে নেওয়ার আবেদন করেছিল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনার পরিবার যখন বাইরে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলে তখন দেশনেত্রীর অবস্থা ভেরি ডিফিক্যাল্ট ছিল, ইট ওয়াজ ভেরি ক্রিটিক্যাল। ডাক্তাররা পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। যে কারণে তারা একটা রিপোর্টও দিয়েছিলেন যে, তার অবস্থা ভেরি ক্রিটিক্যাল, আমাদের এখানে যে ব্যবস্থাগুলো আছে সেটা এনাফ নয় তাকে ঠিক করার জন্য। সেজন্য তারা মনে করেছেন যে, যদি বাইরে চিকিৎসাটা নেওয়া হয় তাহলে ভালো হবে।’

উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের আবেদনের কথা তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আবেদন করার পর তারা (সরকার) এমনভাবে কথা বললেন যে, অনুমতি দিয়ে দেবে। জনগণসহ সবাই আশাবাদী ছিলেন। আশাবাদী ছিলেন এই কারণে যে, একজন অসুস্থ মানুষের সঙ্গে কেউ রাজনীতি করতে চায় না।’

‘কিন্তু দুঃখজনকভাবে হঠাৎ করে তাদের টোন বদলে গেল। তারা বলে দিলেন যে, আমরা দিতে পারছি না। কেন পারছেন না সে ব্যাপারে তারা যে যুক্তিগুলো দিলেন সেই যুক্তিগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও খোঁড়া।’

সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়া মুক্ত হওয়ার পর তিনি সরকারের দেওয়া শর্তাবলী ভঙ্গ করেননি দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি যখন বাসায় কোয়ারেন্টাইন ছিলেন তখন একদিনের জন্য শর্ত ভঙ্গ করেননি। উনি একদিনের জন্য ঘরের বাইরে যাননি। বাসার বাইরে যাননি। কোথাও কোনো বক্তব্য দেননি। আমরা হয়তো মাঝে-মধ্যে আপনাদের বলেছি যে, উনি আপনাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তার জন্য দোয়া করতে বলেছেন। উনি কিন্তু নিজে কোনদিন.. এমনকি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে হাতও নাড়াননি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই করোনা মহামারির দুঃসময়েও ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। দোয়া করছি গোটা বিশ্ব ও জাতি করোনামুক্ত হোক এবং ফ্যাসিস্ট যে আগ্রাসন তা থেকে দ্রুত মুক্তি লাভ করুক।’

আরো পড়ুন