বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

কেএসআরএমের শিপে ক্যাডেটের মৃত্যু : তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত: রবিবার, জুলাই ১৭, ২০২২

মৃত্যু হওয়া ডেক ক্যাডেট আবু রাশেদ : ফাইল ছবি

নগর প্রতিবেদক::

বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপের ব্রেভ রয়েল শিপ ম্যানেজমেন্টের (এসআর শিপিং) এমভি জাহান মনি জাহাজে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করা ডেক ক্যাডেট আবু রাশেদের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির অগ্রগতি নিয়ে শুরু হয়েছে ধোঁয়াশা। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে কী না-এ প্রশ্নে মুখ খুলতে চান না কেউই।

এদিকে প্রতিবেদক বেশ কয়েকবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কি দেয়নি সে বিষয়ে জানার জন্য কমিটির প্রধান নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন শেখ মো. জালাল উদ্দিন গাজীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এরপর ফের দুইদিন পর আবারও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ডেক ক্যাডেট আবু রাশেদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে প্রিন্সিপাল অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

একইভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে কি-না জানার জন্য কেএসআরএম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে লাইন কেটে দেন।

গত ৩১ মে আবু রাশেদ নামের এক ডেক ক্যাডেট এমভি জাহান মনি জাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভারতের মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌ বাণিজ্য দপ্তর (এমএমও)।

তদন্ত কমিটিকে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও প্রায় দেড় মাস পার হলেও এখনো প্রতিবেদন নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন কি জমা দেওয়া হয়েছে- না এখনো তদন্তের কাজ চলছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, এ ঘটনায় নৌ বাণিজ্য দপ্তর (এমএমও) নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন শেখ মো. জালাল উদ্দিন গাজীকে প্রধান ও নৌ বাণিজ্য দপ্তরের নৌ প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার মো. রফিকুল আলম ও নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ফিল্ড ইউনিট অফিসের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ হোসাইন সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করে।

কমিটিকে মৃত্যুর কারণ, ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ ও অন্যান্য বিষয় তুলে ধরে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। ডেক ক্যাডেট আবু রাশেদের মৃত্যু নিয়ে সে সময় বিতর্ক দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু দাবি করলেও বন্ধু-সহকর্মীদের অভিযোগ করেছিলেন, জাহাজে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং মানসিক নির্যাতনে ছিল রাশেদ।

মেডিক্যাল চেকআপের পর ২২ বছরের সুস্থ একজন যুবক ২ মাসের মধ্যে কী ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এক্স ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। সংগঠনের সভাপতি কমডোর (অব) সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, জাহাজে ওঠার আগে হেলথ চেকআপ করানো হয়।

শারীরিক সুস্থতা সনদ ঠিক থাকলেই জাহাজে ওঠার অনুমতি মেলে। আগে অসুস্থ ছিল কিনা সে বিষয়ে আমরা জানি না। মালিকপক্ষ বলেছে, মুম্বাইয়ের হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করানো হচ্ছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে বলে সে সময় তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে তদন্ত কমিটিকে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বললেও প্রায় দেড় মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো খোলাসা না হওয়াতে বিসম্য় প্রকাশ করেছেন আবু রাশেদের সহকর্মীরা। এরই মধ্যে তদন্ত কাজ কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে নাকি আদৌ তদন্ত শেষ হয়েছে সে বিষয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। তবে কি সহকর্মীরা যে কথা বলেছেন সেই কথা সত্য হচ্ছে? এমন প্রশ্ন জেগেছে পরিবারের মাঝে।

এদিকে সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য নৌ বাণিজ্য দপ্তর প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি কেএসআরএম গ্রুপের ব্রেভ রয়েল শিপ ম্যানেজমেন্টের (এসআর শিপিং) এমভি জাহান মনি জাহাজে সাইন অন করে ২৯ মার্চ জাহাজে ওঠেন ডেক ক্যাডেট আবু রাশেদ। ৩১ মে জাহাজের ডেকে অজ্ঞান হয়ে পড়লে ভারতের মুম্বাইয়ে একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন