শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২

কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পাঁচ উপজেলার নৌ-চলাচল বিঘ্নিত

প্রকাশিত: রবিবার, মে ২৩, ২০২১

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাঙামাটি:

বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে রাঙামাটির জেলার কাপ্তাই হ্রদ ও এর শাখা নদী কাচালং ও মাইনী খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পাঁচটি উপজেলার নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত ঘটেছে।

নৌ-চলাচলে বিঘ্নিত হওয়া উপজেলাগুলো হচ্ছে লংগদু, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি। হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অসংখ্য ডুবো চর জেগে উঠেছে। যার কারণে এসব উপজেলা সদর থেকে লঞ্চঘাট অনেক দূরে সরে গেছে। প্রচন্ড রোদ মাথায় নিয়ে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অনেক কষ্টে মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। উপজেলাগুলোতে নৌযানে পণ্য পরিবহনও কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বিদ্যুৎ ব্যাবহারের সুবিধার জন্য ১৯৪৭ সালে কাপ্তাইয়ে বাঁধ নির্মাণের ফলে জেলার বিস্তির্ণ সমতলী জায়গা ডুবে গিয়ে বিশাল জলধার সৃষ্টি হয়। যাকে আমরা এশিয়ার বৃহত্তম ‘কাপ্তাই হ্রদ’ নামে চিনি। এ কারণে রাঙামাটির জেলা সদরের সাথে পাঁচ উপজেলার নৌ-পথই হচ্ছে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। জেলার সাথে সড়ক পথ গড়ে না উঠায় এসব উপজেলার বাসিন্দারা নৌ-পথে লঞ্চ, ইঞ্জিনবোট ও স্ফিডবোট যোগে জেলা শহর সহ বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়ত করে থাকেন। তাও আবার সময় সাপেক্ষ।

জ্যৈষ্ঠের খরতাপে কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে প্রতি বছরই রাঙামাটির পাঁচ উপজেলার মানুষের যাতায়াত চরম কষ্টকর হয়ে ওঠে। এ বছর চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অতি খরার কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে লঞ্চ কিংবা ইঞ্জিন বোট উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারছে না। জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও ফারুয়া অঞ্চলের লোকজনকে অনেক কষ্টে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এলাকায় উৎপাদিত পণ্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল আনা-নেয়ার মজুরি খরচও অনেক বেড়ে গেছে। যে কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের চড়া দাম গুনতে হচ্ছে এসব উপজেলার মানুষকে। এছাড়া এসব উপজেলার গ্রামাঞ্চলে পাহাড়িদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাস। শুষ্ক মৌসুমে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে এসব পাহাড়ি এলাকায়। সুপেয় পানির জন্য কয়েক মাইল হেঁটে তাদের খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

জুরাছড়ি উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা নীতিভূবন চাকমা জানান, হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় জুরাছড়ির নৌঘাট অনেক দূরে সরে গেছে। রাঙামাটি জেলা সদরে যেতে হলে কয়েক কিলোমিটার হেটে গিয়ে ছোট ইঞ্জিন বোট উঠতে হয়।

বিলাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচঙ্গ্যা জানান, রাঙামাটি থেকে বিলাইছড়ি পৌঁছাতে অর্ধেক পথ হেটে আসতে হয়। তরপর ছোট বোটে উঠতে হয়। ভাড়াও প্রায় দ্বিগুণের বেশি। এছাড়া বিলাইছড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও ভাড়া দিতে হচ্ছে প্রায় তিনগুণ। তিনি আরো জানান, বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে বর্তমানে ফারুয়া যেতে মোটরসাইকেলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। আগামী কয়েকদিন গরম অব্যাহত থাকলে আর যদি বৃষ্টি না হয় বিলাইছড়ি ও ফারুয়ার পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে কাচালং নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলার সাথে রাঙামাটি জেলার নৌ-যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বাঘাইছড়ির তরুণ সাংবাদিক ওমর ফারুক সুমন জানান, রাঙামাটি জেলা সদরের যেতে হলে বাঘাইছড়িবাসীকে বিকল্প হিসেবে সড়ক পথে খাগড়াছড়ি দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় যেমন লাগে তেমনি ব্যায় সাপেক্ষ।

লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউপি চেয়রাম্যান আব্দুল আলী জানান, তীব্র তাপদাহের কারণে কাপ্তাই হ্রদের শুকিয়ে নৌচলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। লোকজন অনেক কষ্ট করে জেলা শহরে যাওয়া আসা করেন। এছাড়া পণ্য আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ব্যাবসায়ীদের। অচিরেই বৃষ্টিপাত হলে লেকের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলে তখন ছোট ইঞ্জিনবোট দিয়ে লোকজন যাওয়া-আসা ও পণ্য সরবরাহে কিছুটা সুবিধা হবে। অন্যথায় এসংকট আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।

আরো পড়ুন