বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

কর্ণফুলীতে কেন্দ্র দখল করার দায়িত্ব আনোয়ারার নেতাদের, অভিযোগ প্রার্থীর

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, নভেম্বর ১, ২০২২

নগর প্রতিবেদক :

আগামী কাল ২ নভেম্বর কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুুষ্ঠিত হবে। সে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরীর সাথে নির্বাচনী লড়াই করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মোহাম্মদ আলী।

আগাামীকালের ভোটকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২ টি কেন্দ্র দখল করার জন্য ইতিমধ্যেই দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

আজ মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা, রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে করা এক লিখিত অভিযোগে তিনি এই অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানান, ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার পর থেকেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফারুক চৌধুরী এলাকায় চিহিৃত খুনি চক্র, মাদকসেবী, হত্যা মামলার র্চাজশীটভুক্ত আসামীদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে।

অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে পরাজয় জেনে ফারুক চৌধুরী বহিরাগতদের দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের জন্য নীল নকশা প্রণয়ন শুরু করেছে। এরই ধারবাহিকতায় উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৪২ টি কেন্দ্র দখলে নেয়ার জন্য গত শনিবার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করে।

ভোটকেন্দ্র দখল করে সাধারণ ভোটারদের শুধুমাত্র ভাইস চেয়ারম্যানদের ভোট প্রদানের সুযোগ দিয়ে চেয়ারম্যান পদের ভোট নিজেরা নিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

ভোটকেন্দ্র দখলের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনিন অভিযোগ করেছেন তার মধ্যে শিকলবাহা ইউনিয়নের কেন্দ্র দখলে থাকবে পাশ্ববর্তী আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াসিন হিরু, মঈনুদ্দিন মনসুর। একইভাবে বড়উঠান ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ও বৈরাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালন করবেন।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, আনোয়ারা উপজেলা শ্রমিক লীগ ও দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা। চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে আনোয়ারা উপজেলার বারশত ও জুইদন্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী ও দলীয় চেয়ারম্যান। জুলধা ইউনিয়নে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ও হাইলধর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে। এসব অভিযোগ আনারস প্রার্থীর।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়-দায়িত্বপ্রাপ্ত বহিরাগত নেতারা তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে ভোর থেকে পাহারা বসিয়ে আমার পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিবে। কেউ ঢুকতে চাইলে তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হবে এবং প্রতিটি ভোটগ্রহণের গোপন কক্ষে ফারুক চৌধুরীর সমর্থকরা থাকবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুক চৌধুরীকে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও থানাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আশা করি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রে কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হবে না। কেন্দ্রে কোন বহিরাগত প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র ভোটার ও এজেন্টরা কেন্দ্রে ঢুকতে পারবে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

একই কথা জানিয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুনুর রশীদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেও ঝূঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা জানতে চাইলেন।

অভিযোগে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। অভিযোগে তিনি ভোটগ্রহণ কক্ষের ভেতর যাতে ইভিএম মেশিনের বাটন ভোটার ছাড়া অন্য কেউ জোর পূর্বক চাপতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো পড়ুন