শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২

করোনায় নিস্প্রভ ঈদ আনন্দ, তবু সুস্থ পৃথিবীর প্রত্যাশা

প্রকাশিত: বুধবার, মে ১২, ২০২১

উৎসব হল আনন্দময় অনুষ্ঠান। উৎসব বলতে সাধারণত সামাজিক, ধর্মীয় এবং ঐতিহ্যগত প্রেক্ষাপটে পালিত আনন্দ অনুষ্ঠানকে বোঝায়। প্রত্যেক ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কিছু উৎসব থাকে। ইসলাম ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসবকে ঈদ বলে। মহান আল্লাহ খুশি হয়ে বান্দাদের প্রতি রহমত হিসেবে ঈদ দান করেন।

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি হলো ‘ঈদুল ফিতর’। ‘ঈদুল ফিতর’ অর্থ হলো ‘রোজা ভাঙার দিন’। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার পর, মহান রাব্বুল আলামীন রোজাদারদের পুরষ্কার হিসেবে ‘ঈদুল ফিতর’ দান করেন। তাই ‘ঈদুল ফিতর’-কে ধর্মীয় ভাষায় ‘ইয়ামুল জাএজ’ বা ‘পুরষ্কারের দিবস’ ও বলা হয়।

মুসলমানদের জন্য ঈদ হলো আনন্দ ও খুশির উৎসব। ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় ঈদের সব আয়োজন। ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই ঈদের প্রকৃত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ঈদ আনন্দে একে অপরের বুকে বুক মিলিয়ে আন্তরিকতায় একাকার হয়ে যায়। ঈদে ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবার পরনে থাকে নতুন কাপড়। সবাই মিলে এক হয়ে মহামিলনের বার্তা প্রচার করে। ঘরে ঘরে তৈরি হয় রকমারি সব খাবার। অনেকে মিষ্টি বিতরণ করে। আবার অনেকে আত্নীয়-অনাত্নীয়ের বাড়ি বাড়ি ঘুরে কুশলাদি ও তোহফা বিতরণ করেন।

কিন্তু এবারের ঈদ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব কারণে এবার চার দেয়ালের মধ্যেই কাটছে বেশির ভাগ মানুষের ঈদ। সব বিধিনিষেধ মেনে ঘরে বসেই ঈদ উৎযাপন করছেন সবাই। করোনার কালো অভিশাপে ম্লান হয়ে পড়েছে ঈদ আনন্দ। নেই আগের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় চলছে ফোন কিংবা অনলাইনে। সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরোয়া ভাবে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছে।

তবে এইভাবেই কি ক্ষীণ হবে আমাদের প্রতিবারের ঈদ? আমরা কেউ কখনো কল্পনা করিনি এমন প্রাণহীন ঈদ আমাদের পালন করতে হবে। আপনজন ছাড়া, উৎসব ছাড়া ঘরবন্দী বিষন্ন এক ঈদ! তবু নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঈদ উৎসবের এই মহা আনন্দে বাঙালির চেতনা ও মনন রঙিন হয়ে উঠেছে উৎসবের আনন্দে। এই মহামারী আমাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে করোনাকে প্রতিহত করতে। জীবনে বেঁচে থাকাটাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর জীবন বাঁচাতে এই মুহূর্তে বেঁচে থাকার লড়াইটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।

করোনা সংক্রান্ত সরকারি সব বিধিনিষেধ মেনে চলে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। ঈদে স্রষ্টার কাছে এটাই প্রার্থনা, করোনার অবসান ঘটুক খুব শীগ্রই। আবার জনকোলাহলে ভরে উঠুক চারপাশ। পৃথিবী আবার জেগে উঠুক সজীবতায়। ঈদের খুশি সবাইকে পূর্ণতা দান করে সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি। বছরের প্রতিটি দিন ঈদের দিনের ন্যায় খুশি ও আনন্দময় হোক- এই শুভ প্রত্যয় নিয়ে সবাইকে জানাই ঈদের স্নিগ্ধ শুভেচ্ছা।
‘ঈদ মুবারক’


লেখক: আনিকা নাওয়ার, কবি ও কলামিস্ট।

আরো পড়ুন