বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

কক্সবাজারে জুলাই মাসে ৩০ ধর্ষণ

প্রকাশিত: শুক্রবার, আগস্ট ৫, ২০২২

আয়াছুল আলম সিফাত, কক্সবাজার ::

কক্সবাজারে দিনদিন ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলেছে। গেলো ১৫ দিনে ১৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর এক মাসে ঘটেছে ৩০ টি ধর্ষণের ঘটনা। এরমধ্যে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩ টি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকারকর্মীরা।

জেলা পুলিশের জুলাই মাসের এক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কক্সবাজারে জুলাই মাসে গণধর্ষণ ও বলাৎকারসহ ৩০ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে জোরপূর্বক ৯টি, বিয়ের প্রলোভনে ১০টি ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২৮ জন আসামী আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জন সন্দেহভাজন আসামী।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে চকরিয়া ও উখিয়া উপজেলায়। তবে জুলাই মাসে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় কোন ধরণের ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলায় জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩ টি। এরমধ্যে জোরপূর্বক ২ টি এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

চকরিয়া উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৮টি। এরমধ্যে জোরপূর্বক ২টি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৩ টি ও বিয়ের প্রলোভনে ৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

মহেশখালী উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩ টি। এরমধ্যে জোরপূর্বক ১ টি ও বিয়ের প্রলোভনে ২ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রামু উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১টি।

উখিয়া উপজেলায় জুলাই মাসে ৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে বিয়ের প্রলোভনে ৩টি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৩টি ও পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে ৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

উখিয়ায় ৮টি ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে একটি বলাৎকারের ঘটনাও রয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উখিয়ার বনরূপা আবাসন প্রকল্প রহমানিয়া হেফজ ও এতিমখানায় মাদ্রাসা শিক্ষকের হাতে এক শিশু বলাৎকারের শিকার হয়।

টেকনাফে ২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে জুলাই মাসে। এরমধ্যে জোরপূর্বক ১টি ও বিয়ের প্রলোভনে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পেকুয়ায় ১ টি এবং ঈদগাঁও উপজেলায় ১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

কক্সবাজারে জুলাই মাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। এরমধ্যে সদরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মহেশখালী ও টেকনাফ উপজেলায় পৃথক দুটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

নারী অধিকারকর্মী ও আইনজীবী প্রতিভা দাশ উদ্বেগ প্রকাশ করে টিটিএনকে বলেন, এই ধরণের ঘটনা পর্যটন শহর কক্সবাজারের জন্য এক ধরণের এলার্মিং। এখনই প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সামাজিক অবক্ষয় আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, শাস্তি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব। তবে দ্রুত সময়ে সনাক্ত, তদন্ত এবং গ্রেপ্তার নিশ্চিত করাও জরুরি।

তবে আইনশৃঙ্খলা অবনতির বিষয়টি মানতে নারাজ কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। যেসব ঘটনায় এখনো আসামী গ্রেপ্তার হয়নি তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, কেবল মামলা হলেই আইনশৃঙ্খলা অবনতি হয় এমনটি নয়, আইনশৃঙ্খলা অবনতির সূচকে ডাকাতি রাহাজানি খুন সহ যেসব বিষয়কে অবনতি বলে ধরে নেয়া হয় সে জায়গা থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে এবং আরো ভালো রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

আরো পড়ুন