শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা ছাড় পাবে না, হুশিয়ারি শিক্ষা উপমন্ত্রীর

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৬, ২০২১

এতিম বাচ্চাদের নিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করছে মন্তব্য করে তাদের বিএনপি জামাতের মতো ছাড় দেওয়া হবে না হুশিয়ারি করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত বারোটায় তাঁর ভেরিফাই করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে দেওয়া একটি স্টাটাসে এ হুশিয়ারি দেন।

তিনি লিখেছেন “খেলাফতে মজলিশ নামক একটি দলের এক নেতা এই কুলাঙ্গার মামুনুল হকের পক্ষে যেভাবে সাফাই গাইলো, এতে বোঝা যায় দ্বীনে ইসলাম শুধুই এদের বেচে থাকার জন্য একটি মাধ্যম। ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মনে রাখা প্রয়োজন স্বাধীনতা যুদ্ধে এই দেশের জনগন এদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এদের ছাড়াই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে, আওয়ামী লীগ সহ প্রগতিশীল শক্তির সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলো। কিছু এতিম শিশু কে রাখে বলে এরা অনেকের সহানুভূতি পায়। এরা দেশের প্রচলিত সরকার কাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনের অধীনে না আসলে, এদের কিভাবে শায়েস্তা করতে হবে তা আমাদের জানা আছে। পিতার ভাস্কর্য অপমানিত করার পর থেকে, এদের স্পর্ধার শুরু, এখন ১৭টি লাশের উপরে চলছে এদের “রিফ্রেশমেন্ট” জীবন। আগুন যারা জ্বালিয়েছে, পিতার ছবিতে হাত যারা দিয়েছে, এদের একটা একটা করে ধরে আনা হবে, আইনের সম্মুখীন করা হবে। সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, সর্ব পর্যায়ে এই কাঠমোল্লা গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামী লীগ বানের ভেসে আসে নাই। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতি করতে চায় করবে, কিন্তু ধর্ম ব্যবসা করে মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালানোর পরিনাম এদের বোঝাতে হবে। আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি-জামাত ছাড় পায় নাই, এই ধর্ম ব্যবসায়ীরাও ছাড় পাবেনা। ইনশাল্লাহ।”



শিক্ষা উপমন্ত্রীর দেওয়া এ পোস্টটে সাধুবাদ জানিয়েছেন ফেইসবুকের নেটিজনরা। সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের জিনাত সোহানা চৌধুরী কমেন্ট বক্সে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের পিতা আজিজুল হকের একটি ছবি দিয়েছেন। সেখানে লিখা আছে ” ১৯৭১ এ আমগো অবস্থান ছিল নিরপেক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ” মন্তব্যটি করেছেন মামুনুলের পিতা আজিজুল হক। স্টিকার ছবিটিতে আজিজুল হকের ডানে জামায়াত নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদ ও বামে আজিজুল হককে জড়ানো অবস্থায় আছে যুদ্ধঅপরাধে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামী।

একই পোস্টে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এমরান উদ্দিন কয়েকটি স্টিকার কমেন্ট করেছেন। সেখানে সাম্প্রতিক কালে মামুনুল হকের ভাইরাল হওয়া নারী নিয়ে ছবি আর জান্নাত আরা ঝর্ণা নামের এক মহিলার পাশে খালি গায়ে মামুনুল হকের ছবি আছে।

এছাড়াও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতা সাইফুল্লাহ খান চৌধুরী লিখেছেন “এই রকম পোষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের থেকে আশা করি ধন্যবাদ আপনাকে।”

কমেন্ট বক্সে রাজশাহীর মতিহার থানা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মালেক লিখেছেন “মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় তৃণমূলের সাথে ক্ষমতাধরদের ভালো সম্পর্ক থাকলে মামুনুলের গোয়ার কাপড় অনেক আগেই খুলে ফেলতো। তৃণমূল আজ শুধু দেখছে আর মাড়ি কামরাচ্ছে।”

শিক্ষা উপমন্ত্রীর পোস্টটি ইতিহাস গবেষক ও ইতিহাসের খসড়া পত্রিকার সম্পাদক শামসুল হক লিখেছেন ” একই সঙ্গে দলের মধ্যে এদের সম্পর্ক, গোপন পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে বের করে দিতে হবে।”

আরো পড়ুন