বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

টাইগারপাস চত্বর হবে ইউসুফ চৌধুরীর নামে

ইমারত নির্মাণে প্ল্যানের সাথে চসিকের ছাড়পত্র নেয়া বাধ্যবাকতা থাকবে : মেয়র

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, জুন ২৮, ২০২২

নগর প্রতিবেদক::

নগরীতে ইমারত বা টাওয়ার নির্মাণ করতে গেলে যে প্লান অনুমোদন দেয়া হবে তাতে সিটি কর্পোরেশন থেকে ছাড়পত্র নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। তা না হলে নগরীর জলাবদ্ধতা সহ অন্যান্য যে সমস্যার সৃষ্টি হয় তা নিরসন সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকালে আন্দরকিল্লা পুরাতন নগর ভবনের কে বি আবদুচ ছাত্তার মিলনায়তনে চসিকের ৬ষ্ঠ পরিষদের ১৭তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন।

একই সাথে টাইগারপাস চত্ত্বরটি পূর্বকোণের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ইউসুফ চৌধুরী নামে নামকরণের বিষয়টি সাধারণ সভায় অনুমোদন লাভ করায় এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পত্র প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশনা প্রদান করেন মেয়র।

তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের জন্য ১৩৭০ কেটি টাকা এবং নগরীর সামগ্রীক সড়ক ও যোগাযোগ উন্নয়নে ২৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। ২৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে কাজের তালিকা সংগ্রহ করে এবং তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সততা, জবাবদিহিতা ও কাজের গুনগত মান অক্ষন্ন রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বহির্ভূত ২১টি খাল চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প মেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের যে কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে তার আওতায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের নালা নর্দমার মাটি উত্তোলন, পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য পুরোদমে কাজ অব্যাহত রয়েছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ নগরীর ১৮টি ওয়ার্ডে একযোগে চসিকের বিশেষ দলের মাধ্যমে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলেছে।

মেয়র বলেন, নগরীতে ট্যানেল চালু হলে নগরীর গুরুত্ব যেমন বেড়ে যাবে তেমনি যানবাহনের চাপও বৃদ্ধি পাবে। এই বিবেচনায় বর্জ্য ব্যাবস্থপনাকে আধুনিকভাবে সাজাতে হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার যে সংস্কৃতি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তা দূরীকরণে কঠোর হতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক প্রণিত ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন ২০২১’ এর মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চসিক বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, এ জন্য গনমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এর পরও যদি বিষয়টি কেউ অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে জরিমানা সহ দন্ড বিধান যা ২ লক্ষ টাকা জরিমানা, ২ বছরের জেল বা উভয় দন্ড প্রয়োগ ছাড়া অন্য কোন গত্যন্তর নেই।

মেয়র বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নগরীকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে সার্বিক প্রস্তুুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীতে কোরবানীর দিন থেকে আরো তিন দিন যাতে উপজেলা থেকে জবাইকৃত পশুর চামড়া নগরীতে প্রবেশ না করে সে ব্যাপারে চামড়া ব্যবসায়ী, লবন ব্যবসায়ী, জেলা প্রশাসন ও আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সাথে যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান করে উপজেলা পর্যায়ে চামড়া লবনজাত করে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নেয়া হবে।

নগরবাসির পশুর বর্জ্য নিদিষ্ট জায়গায় রাখার সুবিধার্থে ১ লাখ পলি ব্যাগ সরবরাহ করা হবে জানিয়ে বলেন, আমরা চাই বিগত বছর কোরবানীর বর্জ্য অপসারণে চসিক সারা দেশে যে সুনাম অর্জন করেছে তা থেকে যেন আরো উত্তরণ করতে পারা যায় সে প্রচাষ্টা চালানো হবে। তিনি সরকারের রূপকল্প ২০৪১ এর সাথে মিল রেখে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন এলাকায় মাষ্টার প্লান প্রনয়ন করা হয়েছে। এই মাষ্টার প্ল্যানে চসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে এস.টি.এস (সেক্টন্ডারী টান্সফার ষ্টেশন) ও টিজি স্থাপনের উপর গুরুত্ব দেয়ার হয়েছে।

তিনি বলেন সিলেটের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাড়ানো নিমিত্তে চসিকের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের একদিনের সম্মানি বন্যাদুর্গতদের জন্য আর্থিক সাহায্যাকারে ত্রাণ ও পূর্নবাসন মন্ত্রণালয়ে প্রদানের উদ্দ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে এবং বন্যাপরবর্তী চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য চসিকের একটি মেডিক্যাল টিম প্রেরণ করা হবে।

নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধনের নামে অপরিকল্পিত ভাবে যাদের জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাতে সৌন্দর্য্য বর্ধণের চাইতে সৌন্দর্য্য হানি হয়েছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ইতোমধ্যে চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন না করায় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং আরও বাতিল করা হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। মেয়র সৌন্দর্য্য বধর্নের যে সমস্ত ফেন্সিং করা হয়েছে তা পুনরায় সংস্কার করে দৃষ্টি নন্দন করার জন্য প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দেন এবং মিড আইল্যান্ডে সৌন্দর্য্য বর্ধনকারী নিদিষ্ট প্রজাতির বৃক্ষ রোপন এবং রোপিত গাছ গুলোকে সঠিক পরিচর্যা করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেন।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নগরীতে জলজটের কারণে রাস্তা ও নালা একাকার হয়ে পূর্বে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেই জন্য নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাসহ যে সেবা সংস্থাই কাজ করুক না কেন সে সব জায়গায় নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মানের দায়িত্ব চসিক প্রকৌশল বিভাগকে নিতে হবে। ভবিষ্যতে প্রাণহানির মত দুর্ঘটনা যাতে না হয় সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।

তিনি রাজস্ব বিভাগকে গতিশীল করার আহবান জানিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৬টি খাতের উপর কর আদায়ের নীতিমালা থাকলেও চসিকের এ পর্যন্ত কয়েকটি খাত ছাড়া বাকি খাতগুলো থেকে করের আওতায় আনতে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে তা খতিয়ে দেখে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভার শুরুতে সিলেট সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা এবং শীতাকুন্ডে বি.এম. কন্টেইনারের অগ্নিকান্ডে নিহত ও আহতদের পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয় এ ছাড়াও নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মোনাজাত করা হয়।

চসিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব খালেদ মাহমুদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র মো.গিয়াস উদ্দিন, আফরোজা কালাম, বর্জ্য ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি মোবারক আলী, পানি ও বিদ্যুৎ ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি মো. মোর্শেদ আলম, অর্থ ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. ইসমাইল, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ও মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাসেম, প্রমুখ।

আরো পড়ুন