শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২

অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব

প্রকাশিত: রবিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২

যাপিত জীবনের সবটা স্বপ্নে ভরা নয়। সবটা সুন্দর আর মসৃণ হয় না । চলার পথে ঘটে যায় কত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা । ঘটে যাওয়া সেসব ঘটনা আমাদের মনে প্রভাব ফেলে । ব্যক্তি ভেদে ঘটনা গুলির প্রতি প্রতিক্রিয়া ও ভিন্ন হয়ে থাকে ৷ একজনের জন্য যা কষ্টদায়ক, অন্যের জন্য তা নাও হতে পারে।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) এর মতে, ট্রমা ( মানসিক আঘাত) হল “দুর্ঘটনা, ধর্ষণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ভয়ানক ঘটনার প্রতি একটি মানসিক প্রতিক্রিয়া। ” পাশাপাশি শারীরিক আঘাত, নির্যাতন, বুলিং এর শিকার হওয়া, কাছের কাউকে হারানো, ইত্যাদি আমাদের মনে বিরুপ প্রভাব ফেলে এবং আমরা আঘাত প্রাপ্ত হই।

আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইভেন্টের (ঘটনার )সাথে সাথে এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের আবেগ অনুভব করতে পারেন। ট্রমা ( মানসিক আঘাত ) শারীরিক উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ঘুম চক্রে ব্যাঘাত, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং বমি করা, মাথা ব্যাথা, ঘাম হওয়া, হার্ট বিট বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি ।

শৈশবের মানসিক আঘাত :

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ সময় হচ্ছে শৈশব । মানুষ বার বার শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে পছন্দ করে৷ অথচ এই শৈশবে শরীর ও মনে কঠিন কোনো আচড় লাগলে তার চিহ্ন থেকে যায় সারাজীবন। শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন , পরিবার বা স্কুলে অবহেলা, মা – বাবার ঝগড়া / বিচ্ছেদ ইত্যাদি শিশুর মনে প্রভাব ফেলে এবং যেটা ট্রমা হিসেবে তার মধ্যে রয়ে যায়৷ পরবর্তী সময়ে হয়তো সে পড়াশুনা করছে, ক্লাসে সবার সাথে মিশছে কিন্তু যখন তার জীবনে কঠিন সময় আসবে সে সেটা স্বাভাবিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হবে ৷ বড় বয়সে মানসিক রোগের বিভিন্ন কারণের মধ্যে শৈশব বা কৈশোর ট্রমা একটি অন্যতম কারণ।

সাইকোলজিস্ট ফয়সাল রাফি মনে করেন, ” শৈশবের মানসিক আঘাত বা ট্রমা আমাদের পরবর্তী জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র কে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে আমাদের সম্পর্কগুলো কেমন হবে এবং আমাদের নিজেদের প্রতি আমাদের মনোভাব কেমন হবে সেটা অনেকাংশে প্রভাবিত হয় শৈশব বা কৈশোর কালে প্রাপ্ত মানসিক আঘাত দ্বারা। মানসিক আঘাত বা ট্রমা প্রাপ্ত একজন মানুষ সম্পর্কে অনিরাপদ বোধ করতে পারে কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না, নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে এবং সবকিছুর জন্য নিজেকে দায়ী মনে করতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো সহজেই প্রকট আকার ধারণ করে যদি ব্যক্তির শৈশব বা কৈশোর কালে কোন ট্রমা বা মানসিক আঘাত পাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকে । বড় বয়সেও শারীরিক, মানসিক ও আবেগময় কারণে ট্রমা হতে পারে।

মানসিক আঘাত ব্যক্তির সুস্থতার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। যদি উপসর্গগুলি অব্যাহত থাকে এবং তীব্রতা না কমে, তবে এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে ট্রমাটি একটি মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে যাকে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস মেডিসিন বলছে, এতে আক্রান্ত হলে যে ঘটনার কারণে এটা হয়েছে একজন মানুষ যেন বারবার ওই ঘটনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এমন অনুভব করেন, আবার ঘটতে যাচ্ছে এরকম আতঙ্ক বোধ করে। ঘটনাটি মনে করিয়ে দিতে পারে এমন কিছু এড়িয়ে চলেন ।

পরিশেষে বলতে চাই, শরীরের সকল অঙ্গের মতো মস্তিষ্কেরও যত্নের প্রয়োজন। ব্যায়াম, ঘুম, প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সবই মস্তিষ্কের জন্য জরুরি। আবার মানসিক আঘাত পেলে দ্রুত তা আমলে নেওয়া উচিত। অবহেলা করলে তা পরে গুরুতর সমস্যার দিকে মোড় নিতেপারে। প্রয়োজনে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের (সাইকোলজিস্ট) সাহায্য নেয়া ।

মিথিলা ফারজানা হক
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো পড়ুন